Advertisement

পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে নিজেদের জলসীমায় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওড়িশা উপকূলের আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়।

Advertisement

এর আগে উৎক্ষেপণস্থল থেকে শুরু করে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোরজুড়ে নোটাম (নোটিস টু এয়ারমেন) জারি করেছিল নয়াদিল্লি। গত ৬ মে থেকে শুরু হয়ে ৯ মে পর্যন্ত নোটাম জারি করে আকাশসীমা সীমিত করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) ভারতের প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটি দেখতে অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো না হলেও এটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) শ্রেণির। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ঘোষণা করেনি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। তবে ডিআরওডি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা স্বীকার করেনি।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক এক শীর্ষ সম্মেলনে ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাথ ‘অগ্নি-৬’ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘সরকার অনুমতি দিলেই আমরা এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। সমস্ত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’ এর কয়েকদিন পরেই এই উৎক্ষেপণটি করা হলো। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আইসিবিএম প্রযুক্তি থাকার অর্থ হলো পারমাণবিক হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা, যার ফলে কোনো দেশই আগে হামলা করতে পারে না।

ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হলে ভারতের সামরিক সক্ষমতা বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকি হতে পারে। এই আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে গত বুধবার দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টের পর থেকে।

এতে বলা হয়, ‘অগ্নি-৬: পরাশক্তি হওয়ার পথে ভারতের অগ্রযাত্রা! ১০ হাজারের বেশি কিলোমিটার পাল্লা ও এমআইআরভি প্রযুক্তি নিয়ে অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নিরাপত্তাকে অভেদ্য করে তুলবে এবং আমাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর কাতারে স্থান দেবে। শক্তিশালী ভারত, সুরক্ষিত ভারত!’

বিজেপি একটি ভিডিও আপলোড করেছে। তাতে দলটি ব্যাখ্যা করেছে যে, এখন পর্যন্ত কেবল ‘পাঁচটি দেশের কাছেই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা রয়েছে: আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। এখন ভারতও এই একই সারিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চলেছে। অগ্নি-৬ হলো ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র... দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতার ফলে ভারতের প্রভাব কেবল আঞ্চলিকই নয়, বরং আরও বেশি বৈশ্বিক হতে চলেছে।’

প্রতিবেদন অনুসারে, এখন পর্যন্ত বিশ্বের চারটি দেশের কাছেই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা রয়েছে। দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়া। সামরিক শক্তিধর দেশগুলো ১২ হাজার কিলোমিটারের দূর-পাল্লার আইসিবিএম মোতায়েন করেছে। তবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের কাছে কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিন-উৎক্ষেপিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) প্রযুক্তি রয়েছে।

সত্যি ভারত যদি আইসিবিএমের সফল উৎক্ষেপণ করে থাকে, তাহলে বিশ্বের শক্তিধর অনেক রাষ্ট্রই এই ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার আওতায় চলে আসবে। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আইসিবিএম প্রযুক্তি থাকার অর্থ হলো পারমাণবিক হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা, যার ফলে বিশ্বের কোনো দেশই আগে হামলা করতে পারে না।

রাশিয়ার কাছে আছে ১২ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম আরএস-২৮ সারমাত এবং আর-২৯আরএমইউ২.১ লেয়নার আইসিবিএম। চীনের ডিএফ-৪১ (ডংফেং-৪১) আইসিবিএম ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শীর্ষ-স্তরের আইসিবিএম হিসেবে বিবেচিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এলজিএম-৩০জি মিনিটম্যান থ্রি ও আসন্ন এলজিএম-৩৫ সেন্টিনেল রয়েছে, যা আন্তঃমহাদেশীয় দূরত্ব অতিক্রম করে। উত্তর কোরিয়া অতীতে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল।