logo

ভেনেজুয়েলায় মৃত বেড়ে ১৬৪, নিখোঁজ ৭ হাজার

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন ভূ-তত্ত্ব বিভাগের (ইউএসজিএস) তথ্য বলছে, প্রথম কম্পনটির মাত্রা ৭ দশমিক ২ এবং দ্বিতীয়টি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার। ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে বলেও জানিয়েছে মার্কিন ভূ-তত্ত্ব বিভাগ।

ছবি: সংগৃহীত
২৫ জুন ২০২৬, ০৪: ৪৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯৭১ জন। বৃহস্পতিবার (২৫ ‍জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।

দেশের বিরোধী দলের নেতাদের উদ্যোগে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে তৈরি একটি ওয়েবসাইটে কারাকাস সময় রাত ২টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট) ৭ হাজার ৩৮১ জনকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

ওয়েবসাইটটির তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিরোধী শিবিরের অনেক নেতা বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন। এদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, তারা স্বাধীনভাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের এই সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি।

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় সংঘটিত ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। এর কম্পন পুরো অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, লা গুয়াইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ধুলোমাখা অবস্থায় জীবিত তিন শিশুকে উদ্ধার করা হচ্ছে। রদ্রিগেজ লা গুয়াইরাকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং জানান, বিপুল সংখ্যক ভবন ধসে পড়ায় এটি ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন দেশটিতে ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া মানুষদের চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য তাদের কার্যক্রম সক্রিয় করছে।

তার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, ভেনেজুয়েলার রেড ক্রস সক্রিয় রয়েছে এবং সাড়া প্রদান করছে। এর দেশব্যাপী হাসপাতাল ও পলিক্লিনিকের নেটওয়ার্ক সক্রিয় আছে এবং সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ মানবিক প্রভাব এখনও জানা যায়নি। এদিকে, শক্তিশালী আফটারশকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী এবং উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে।

২৫ জুন ২০২৬, ০২: ৪১ পিএম
ভূমিকম্পে কারাকাসের ‘সবকিছু ধসে পড়ছিল’
ভূমিকম্পে কারাকাসের ‘সবকিছু ধসে পড়ছিল’

ভেনেজুয়েলার কারাকাসে ভূমিকম্পের পর ভীত-সন্ত্রস্ত লোকজন খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ৩৮ বছর বয়সী প্রকৌশলী জেসুস আলেজান্দ্রো পিনা। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় দেশটির ইতিহাসে শতাব্দীর ভূমিকম্পের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় একটি সাততলা ভনের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থান করছিলেন তিনি।

ভূমিকম্পের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে এই প্রকৌশলী বলেন, কম্পনটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং প্রায় এক মিনিট ধরে স্থায়ী হয়। ভূমিকম্পের সময় কাঁচের জিনিসপত্র ভেঙে পড়ে, দেয়ালে ঝোলানো ছবি ও টেলিভিশন নিচে পড়ে যায়, আর ভবনের স্তম্ভ ও কড়িকাঠ থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়।

পরিস্থিতি দেখে দ্রুত ওই ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

পিনা জানান, ভূমিকম্পের পর রাস্তাঘাট, চত্বর ও ভবনের নিচে আতঙ্কিত মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেককে আহত অবস্থায় দেখা যায়। কিছু ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং দমকলকর্মী ও প্যারামেডিকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অনেক বাসিন্দা এতটাই ভীত ছিলেন যে ঘরে ফিরতে সাহস পাননি। মধ্যরাত পর্যন্ত মানুষ বাড়ির বাইরে অবস্থান করে খবর দেখছিলেন এবং সম্ভাব্য আফটারশকের আশঙ্কায় সতর্ক ছিলেন।

সূত্র: আলজাজিরা

২৫ জুন ২০২৬, ০১: ২০ পিএম
ইতিহাসের ১০টি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে এ পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৭ শতাধিক মানুষ। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ হতাহতের এই সংখ্যা জানিয়েছেন।

হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলেছে, পরপর শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ দুর্যোগের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ৩৯ সেকেন্ডের মাথায় কারাকাস থেকে পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।

মার্কিন সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত বিশ্বের ১০টি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ১৯৬০ সালে চিলির বায়োবায়ো অঞ্চলে আঘাত হানা ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পে ১ হাজার ৬৫৫ জন নিহত হন।

আর সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল ২০০৪ সালের সুমাত্রা-আন্দামান ভূমিকম্প ও সুনামি। এতে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।

ইউএসজিএসের রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ১০টি ভূমিকম্প ও সেগুলোতে হতাহতের সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো।

 সাল স্থান মাত্রা নিহত
 ১৯৬০ বায়োবায়ো, চিলি ৯.৫ ১ হাজার ৬৫৫
 ১৯৬৪ আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্র ৯.২ ১৩০
 ২০০৪ সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া ৯.১ ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি
 ২০১১ তোহোকু, জাপান ৯.১ ১৫ হাজারের বেশি
 ১৯৫২ কামচাটকা, রাশিয়া ৯.০  ১৫ হাজারের বেশি
 ২০২৫ কামচাটকা, রাশিয়া ৮.৮ শূন্য
 ২০১০ বায়োবায়ো, চিলি ৮.৮ ৫২৩
 ১৯০৬ এসমেরালদাস, ইকুয়েডর  ৮.৮ ১ হাজার ৫০০
 ১৯৬৫ আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্র  ৮.৭ শূন্য
 ১৯৫০  অরুণাচল প্রদেশ, ভারত ৮.৬ ৭৮০

সূত্র: আলজাজিরা

২৫ জুন ২০২৬, ১১: ১২ এএম
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: প্রাণহানি বেড়ে ৩২, আহত ৭ শতাধিক

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও সাত শতাধিক মানুষ। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জানান, লা গুয়াইরা শহরেই ধসে পড়েছে ডজন খানেক বহুতল ভবন। শহরের এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিকে একটি ‘প্রকৃত ট্র্যাজেডি’ বা চরম মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

লা গুয়াইরার পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে রদ্রিগেজ বলেন, সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধসে পড়া এসব কাঠামোর নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে এবং সৃষ্টিকর্তা যতজনকে বাঁচানোর সুযোগ দেন, ঠিক ততটি প্রাণ রক্ষা করতে আমরা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জোরদার উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি।

দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে আমরা সবার প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি। বিশেষ করে যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাদের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। এই দুঃসময়ে সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আরও জানান, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় এসে পৌঁছাবে। সংকটকালীন এই মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি।

২৫ জুন ২০২৬, ১০: ৪৮ এএম
ভেনিজুয়েলাকে সহায়তার বার্তা দিল আরও তিন দেশ

ভেনিজুয়েলার চরম সংকটের মুহূর্তে ল্যাটিন আমেরিকার আরও বেশ কয়েকটি দেশ থেকে সহায়তার বার্তা ও সংহতি প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে।

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি বলিভিয়ার জনগণের গভীর সমবেদনা রয়েছে। একই সঙ্গে তার দেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, ব্রাজিল কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে, তা মূল্যায়ন করার জন্য তিনি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কারাকাসে অবস্থিত ব্রাজিলীয় দূতাবাসকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি ভেনিজুয়েলার কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ভেনিজুয়েলা সরকার যেভাবে প্রয়োজন মনে করবে, উরুগুয়ে সেভাবেই সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে ভেনিজুয়েলার জনগণের প্রতি ‘গভীর সংহতি’ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই তার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা দুই দেশের সরকারের মধ্যে বিদ্যমান যেকোনো মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে।

২৫ জুন ২০২৬, ১০: ১৮ এএম
ভেনিজুয়েলার ভূমিকম্পে ‘ভয়াবহ প্রাণহানি’র আশঙ্কা ট্রাম্পের

ভেনিজুয়েলার ভূমিকম্প নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই উদ্বেগ জানান।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই জোড়া ভূমিকম্প ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এতে ভয়াবহ সংখ্যায় মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো ধরনের সাহায্য করতে পুরোপুরি প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম উল্লেখ করে তিনি জানান, মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘আমাদের নতুন ও চমৎকার বন্ধুদের পাশে আমরা থাকব। প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলো মোটেও ভালো নয়!!!’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনিজুয়েলায় একটি প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করা হয়, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

২৫ জুন ২০২৬, ১০: ১১ এএম
ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা পানামার প্রেসিডেন্টের

ভেনিজুয়েলার এই চরম সংকটের মুহূর্তে দেশটির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। চলমান এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বৈশ্বিক নেতাদের সাড়াদানের তালিকায় তিনি সর্বশেষ যুক্ত হলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট মুলিনো ভেনিজুয়েলার প্রতি পানামার ‘গভীর সহানুভূতি ও সমর্থন’ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটিতে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোরও প্রস্তাব দিয়েছেন।

২৫ জুন ২০২৬, ০৯: ৫৮ এএম
ভেনিজুয়েলাকে জরুরি মানবিক সহায়তার ঘোষণা ইকুয়েডরের

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে দ্রুত মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া আজিন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমি অবিলম্বে মানবিক সহায়তা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।’

প্রেসিডেন্ট নোবোয়া আরও যোগ করেন, ‘ইকুয়েডর এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় গতি ও প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেই সাড়া দেবে। কারণ, গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মানবতার নীতিই একজন নেতার কাজকে সর্বদা পরিচালিত করা উচিত।’

২৫ জুন ২০২৬, ০৯: ৪১ এএম
ভেনিজুয়েলার ভূমিকম্পে কাঁপল ব্রাজিলও

ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের তীব্রতা পাশের দেশ ব্রাজিলের কিছু অংশেও অনুভূত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রাজিল সরকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ভেনিজুয়েলায় অবস্থানরত কোনো ব্রাজিলীয় নাগরিক এখন পর্যন্ত আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, ব্রাজিলের সঙ্গে ভেনিজুয়েলার ২ হাজার ১০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

২৫ জুন ২০২৬, ০৯: ৩৮ এএম
স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের

ভূমিকম্পে আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ভেনিজুয়েলার সব চিকিৎসক ও নার্সদের স্থানীয় হাসপাতাল এবং জরুরি বিভাগে রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

ভেনিজুয়েলার দৈনিক পত্রিকা ‘এল নাসিওনাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমি চিকিৎসক, নার্স এবং সামগ্রিকভাবে সব স্বাস্থ্যকর্মীকে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে আমরা সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর জরুরি বিভাগে আসা সাধারণ মানুষকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিতে পারি।’

রদ্রিগেজ আরও জানান, এই সংকট মোকাবিলায় সবাই একযোগে কাজ করছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।

২৫ জুন ২০২৬, ০৯: ২৯ এএম
ভেনিজুয়েলাকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, দেশজুড়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস বাতিল এবং মেট্রো ও রেলসেবাসহ সব ধরনের জরুরি বহির্ভূত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফকে সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন, যার নেতৃত্বে থাকবেন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল।

২৫ জুন ২০২৬, ০৯: ২৬ এএম
‘চারপাশে শুধু ভাঙা জিনিসপত্র আর কাচের টুকরো ছড়িয়ে আছে’

কারাকাসের স্থানীয় সাংবাদিক নোরিস আরগোত সোতো পুরো শহরজুড়ে তৈরি হওয়া এক আতঙ্কের চিত্র বর্ণনা করেছেন।

টেলিফোনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। আমরা আমাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমার নিজের ভবনটিই মারাত্মকভাবে ফেটে গেছে। এই মুহূর্তে আমাদের এখানে কোনো বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট সংযোগ নেই। আমি চারপাশে তাকালে শুধু ভাঙা জিনিসপত্র আর কাচের টুকরো ছড়িয়ে থাকতে দেখছি।’

সোতোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চ্যাকাও মিউনিসিপ্যালিটিতে অন্তত আটটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

পরবর্তী আফটারশক বা অনুকম্পনের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় মানুষের ঢল নেমেছে। ধসে পড়ার ভয়ে মানুষ তাদের বাড়িঘর কিংবা বহুতল ভবনে ফিরে যেতে চরম আতঙ্ক বোধ করছে।’

২৫ জুন ২০২৬, ০৯: ২৬ এএম
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা

মার্কিন ভূ-তত্ত্ব বিভাগের (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে এই বিপর্যয় বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের সংখ্যা বা আহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন স্থানে ভবন ধস, উদ্ধার অভিযান এবং আহত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ার কথা জানিয়েছেন।

২৫ জুন ২০২৬, ০৯: ২৩ এএম
ভেনেজুয়েলায় ৭.৫ ও ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, বহু প্রাণহানির আশঙ্কা

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূ-তত্ত্ব বিভাগের তথ্য বলছে, প্রথম কম্পনটির মাত্রা ৭ দশমিক ২ এবং দ্বিতীয়টি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার।

বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে অনুভূত হয় প্রথম কম্পনটি। কম্পনগুলোর উৎপত্তিস্থল রাজধানী কারাকাস থেকে ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপে এলাকায়।

মার্কিন সংস্থাটি জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চলে পরপর আঘাত হানা এই দুই ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএসজিএস আরও সতর্ক করেছে, এই বিপর্যয় সম্ভবত ব্যাপক এলাকাজুড়ে ঘটেছে এবং শক্তিশালী আফটারশকেরও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জনগণকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি ভবনের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দিওসদাদো কাবেয়ো বলেন, কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্যাস-সংক্রান্ত কোনো দুর্ঘটনা আমরা চাই না।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এবং হতাহতের তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের সময় কারাকাসের বাসিন্দারা দ্রুত ভবন ছেড়ে বাইরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তার ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কাঁচ ভেঙে পড়েছে।

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভূমিকম্পটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে অনুভূত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।