বিশ্বের সবচেয়ে গভীর হ্রদে তলিয়ে গেল বাস, ৮ মরদেহ উদ্ধার

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে গভীর হ্রদ বৈকালে বরফের স্তর ভেঙে একটি পর্যটকবাহী মিনিবাস তলিয়ে গেছে। এতে সাত চীনা পর্যটক ও এক রুশ চালকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবারের এ দুর্ঘটনার পর ডুবুরিরা পানির নিচে থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছেন।
রুশ কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। এ ঘটনায় সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর আইগোর কোবজেভ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
গভর্নর আরও জানান, এক চীনা পর্যটক কোনোভাবে বেরিয়ে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলে পানির গভীরতা ছিল প্রায় ১৮ মিটার বা ৫৯ ফুট। ডুবুরিদের পানির নিচে ক্যামেরা ব্যবহার করে তল্লাশি চালাতে হয়েছে।
বৈকাল বিশ্বের সবচেয়ে গভীর হ্রদ, যার সর্বোচ্চ গভীরতা এক হাজার ৬৪২ মিটার বা ৫ হাজার ৩৮৭ ফুট। তীব্র শীতে হ্রদটি বরফে জমে যায়। প্রতি বছর এ সময় বহু পর্যটক সেখানে ভ্রমণে যান। তবে অতীতেও বরফ ভেঙে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
গভর্নর কোবজেভ টেলিগ্রামে জানান, মিনিবাসটি তিন মিটার চওড়া বরফের ফাটলে পড়ে যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সময় বৈকাল হ্রদের বরফের ওপর ওঠা শুধু নিষিদ্ধ নয়, প্রাণঘাতীও।
পর্যটকদের শুধুমাত্র অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে ভ্রমণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, নিহত চীনা পর্যটকদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সি এক শিশুও ছিল। এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আরেক বার্তায় গভর্নর বলেন, দুঃখজনকভাবে এই ট্র্যাজেডিও মানুষকে শিক্ষা দিতে পারেনি।
শুক্রবার ও শনিবার আলাদা দুই ঘটনায় বরফে আটকে পড়া ছয়জনকে গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, জানুয়ারির শেষ দিকে বৈকাল হ্রদের জমাট বরফের ওপর চলার সময় একটি গাড়ি উল্টে আরেক এক চীনা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।