logo

হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে ইরানের নতুন বার্তা

হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে ইরানের নতুন বার্তা

টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের কারণে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে ইরান। প্রতিদিন প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত এই প্রণালি দিয়ে। অবরোধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। ইরানে হামলার ব্যাপকতা আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমতাবস্থায় ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি’র বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে ইরান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ শেষের জন্য একটি রূপরেখা হাতে পেয়েছে ইরান। পাকিস্তানের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার পর এই রূপরেখাটি তৈরি করা হয়েছে। এতে অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে সংঘাত নিরসনে আলোচনা শেষ করার কথা বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ‘সারা রাত ধরে’ যোগাযোগ করেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাবে তেহরান নিজেদের স্বার্থভিত্তিক অবস্থান ও দাবি প্রণয়ন করে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তা জানিয়ে দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। আলোচনা ‘চরমপত্র ও যুদ্ধাপরাধের হুমকির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’।

এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, নিজেদের ন্যায্য দাবি ‍উত্থাপনে ইরান কার্পন্য করেন না। একই সঙ্গে এ বিষয়কে আপোসের লক্ষণ হিসেবে না দেখে বরং নিজ অবস্থান রক্ষার ব্যাপারে তেহরানের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা পরিকল্পনার মতো দাবিগুলো অতিরিক্ত হওয়ায় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

এর আগে, ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেবে না। এ ছাড়াও চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কোনো সময়সীমা বা চাপও মেনে নেবে না। ওয়াশিংটন এখনও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত নয়।

সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস সর্বপ্রথম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা দুই ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে বলে আলোচকদের আশা।

তারও আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবারের শেষ নাগাদ যদি তারা যদি কোনো চুক্তিতে না আসে তাহলে দেশটির ওপর ‘নরক’ নেমে আসবে। চুক্তির শর্ত হিসেবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে যান চলাচল পুনরায় শুরু করার কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প।