logo

লারিজানির হত্যা ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ কঠিন করে তুলবে: বিশ্লেষক

লারিজানির হত্যা ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ কঠিন করে তুলবে: বিশ্লেষক

ইরানের নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যা এই যুদ্ধের মোড় স্পষ্টতই ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি বুধবার (১৮ মার্চ) আলজাজিরাকে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথকে আরো কঠিন করে দিতে পারে।’

বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে লারিজানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তিনি সরাসরি সিদ্ধান্তদাতা না হলেও, পুরো ব্যবস্থার মধ্যে ঐকমত্য তৈরির প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।’

পারসি বলেন, ‘গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরানি নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ সব পদের জন্য বিকল্প তৈরি করে রেখেছিল। কারণ তাদের ধারণা ছিল, ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করবে।’

এই বিশ্লেষকের মতে, লারিজানির হত্যাকাণ্ড ইরান সরকারের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে না। বরং এটি ট্রাম্পের জন্য সম্ভাব্য এক্সিট রুট বা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথকে প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে, যিনি আলোচনায় বসে পুরো ইরানি ব্যবস্থাকে সঙ্গে রাখতে সক্ষম।’

পারসি বলেন, ‘এই ধরনের ব্যক্তিরাই ইসরায়েলের এসব হত্যাকাণ্ডে লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য যদি ট্রাম্পের যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা দুর্বল করা হয়ে থাকে, কিংবা নাও হয়ে থাকে—তবুও এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান ফলাফল ও পরিণতি সেটিই।’

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আগে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। আইআরজিসির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরান ও ইসলামি বিপ্লবের উন্নতির জন্য আজীবন সংগ্রামের পর আলী লারিজানি অবশেষে তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করেছেন, সত্যের ডাকে সাড়া দিয়েছেন এবং অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শাহাদাতের বরকতময় মর্যাদা লাভ করেছেন।

লারিজানি ইরানের পার্লামেন্টের প্রাক্তন স্পিকার এবং ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ব্যক্তিত্ব। একসময় তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনায়ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। গত শুক্রবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আল-কুদস দিবসের র‍্যালিতে প্রকাশ্যে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) আধা-সামরিক বাহিনীর বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলাম সোলেইমানির নিহতের খবর নিশ্চিত করে ইরান।

পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের ভূখণ্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও।