logo

মোদি-মমতার শেষ লড়াই, ২৯ এপ্রিল ভোট

মোদি-মমতার শেষ লড়াই, ২৯ এপ্রিল ভোট

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ। এবার শেষ দফার নির্বাচন। আগামী ২৯ এপ্রিল শেষ দফায় ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই দফার নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিন ২৭ এপ্রিল। হাতে সময় মাত্র দুদিন। শেষ সময়ে এসে রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধীদল বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) মতো দলগুলো নির্বাচনি প্রচারণায় ঝড় তুলেছে। 

রোববার (২৬ এপ্রিল) সরকারি ছুটির দিন সকাল থেকেই একদিকে যেমন প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে প্রচারণায় নেমেছেন, তেমনি প্রার্থীদের সমর্থনে তারকা ক্যাম্পেইনাররাও পথে নেমেছেন। এদিন বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে রাজ্যে নির্বাচনি প্রচারণা উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, ভোজপুরি সিনেমার অভিনেতা ও বিজেপি সাংসদ রবি কিষান প্রমুখ। 

অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে একাধিক প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার ভাতিজা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, টলিউড অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিহারের সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, বলিউড অভিনেত্রী মন্দাকিনী। 

একদিন বিকেলে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বনগায় একটি নির্বাচনি সভায় উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনামলে দুর্নীতি, অপশাসন, সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, বেকারত্বসহ একাধিক ইস্যুতে তুলাধুনা করে তিনি বলেন, আগে মা মাটি মানুষের স্লোগান দিয়ে তৃণমূল সরকারে এসেছিল। কিন্তু এখন এদের মুখ থেকে মা মাটি মানুষ শব্দ বের হয় না।

মোদি বলেন, তৃণমূলের নির্মমতার কারণে মায়ের চোখে এখন পানি, মাটিকে সিন্ডিকেট ও অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে, এবং বাংলার মানুষকে পালানোর জন্য বাধ্য করেছে। এই সরকারের আমলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় একের পর এক শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কেবলমাত্র একটাই দোকান খোলা রয়েছে- তা হলো সিন্ডিকেট ও কমিশন। ফলে এই সরকারকে পাল্টাতেই হবে। 

বনগাঁর মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অবৈধভাবে বাংলায় এসেছে, যারা ভুয়া নথি নিয়ে এখানে বসবাস করছে, তারা যেন ২৯ এপ্রিলের আগেই বাংলা ও দেশ ছেড়ে চলে যান। না হলে ৪ মের পর প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূল কোন অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে পারবে না।

প্রথম দফার নির্বাচনে ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়া নিয়ে মোদি বলেন, প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলা কামাল করে দিয়েছে। এই নির্বাচনে তৃণমূলের অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিজেপির সরকার নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলার তরুণ-তরুণীদের তৈরি করা মিউজিক ভিডিও, ওদের বানানো রিল সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই প্রশংসিত হচ্ছে। কিছু কিছু রিল তো আমি নিজেও দেখেছি। ঝালমুড়ি থেকে যার এত ঝাল লাগতে পারে, তার তরুণ প্রজন্মের এই সৃষ্টিশীলতা পছন্দ হবে না। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সৃষ্টিশীলতাকে বাংলার শক্তিতে পরিণত করবে। 

এদিকে ভবানীপুর আসনে তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জির পাঁচটি নির্বাচনি কর্মসূচি রয়েছে। এরমধ্যে একটি পদযাত্রা, বাকিগুলো জনসভা। 

অন্যদিকে রবিবাসরীয় প্রচারের সবটাই শান্তিপূর্ণ হয়নি। হাওড়ার লিলুয়ায় বিজেপির প্রচারের সময় ভোজপুরি সুপারস্টার বিজেপি সাংসদ রবি কিষাণের রোড শো মুখোমুখি হয় তৃণমূলের মিছিলের, যার ফলে ‘জয় শ্রীরাম’ বনাম ‘জয় বাংলা’ স্লোগানযুদ্ধ শুরু হয়। এই প্রচার চলাকালীন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, বাঁশ-লাঠি নিয়ে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। জখম হন চারজন। পরিস্থিতি মুহূর্তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। লাঠিচার্জ করে তা সামলায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ক্যামাক স্ট্রিটের বরদান মার্কেটে একটি সভা থেকে মমতা বলেন, প্রথম দফার নির্বাচনে আমরা সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছি। পরবর্তী দফায় আমরা আরেকটি সেঞ্চুরি করব। এই কারণে বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে। আর যারা ভয় পায় তারা মরে যায়। এই কারণেই ওরা কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গুন্ডাগিরি করছে।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন, ভরসা রাখুন। আমরা ২০১৪ সাল থেকে রয়েছি। আপনারা কখনও দেখেছেন, এখানে কোন অসুবিধা হয়েছে? তিনি (নরেন্দ্র মোদি) আগে দিল্লি সামলাক, তারপরে বাংলার দিকে তাকাবে। কাশ্মীরের পেহেলগামে যখন পাকিস্তান হামলা করল, তখন সেখানে সাঁজোয়া গাড়ি কেন পাঠানো হলো না? আর বাংলায় ২ লাখ পুলিশ সদস্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওরা কেবল বেছে বেছে তৃণমূলের কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। 

মমতার দাবি, এখানে আমি কোনো ভেদাভেদ করি না। এটা হচ্ছে মিনি ইন্ডিয়া। আমি সব ধর্মের মানুষকে ভালোবাসি। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল। সবাই মিলে একসঙ্গে থাকাটাই বাংলার পরম্পরা ঐতিহ্য।