logo

‘হেট স্পিচ’ বিভাজন তৈরির হাতিয়ার: জাতিসংঘ মহাসচিব

‘হেট স্পিচ’ বিভাজন তৈরির হাতিয়ার: জাতিসংঘ মহাসচিব
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি: সংগৃহীত

‘হেট স্পিচ’ বা ঘৃণাত্মক বক্তব্য বিভাজন তৈরির হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার মতে, এই হাতিয়ার নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পঞ্চম ‘ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এ মন্তব্য করেন তিনি। ২০২২ সাল থেকে প্রতি বছরের ১৮ জুন দিনটি জাতিসংঘ ঘোষিত ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘ঘৃণাত্মক বক্তব্য মানুষকে অমানবিক করে দেখার পথে প্রথম ধাপ। এই পথ প্রায়ই সহিংসতা, সংঘাত এবং নৃশংস অপরাধের দিকে নিয়ে যায়। এটি বিভাজন সৃষ্টির হাতিয়ার, যা নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে—যাদের মধ্যে রয়েছে নারী, অভিবাসী, শরণার্থী, সমকামী জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং আরও অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

ডিজিটাল মাধ্যমে ঘৃণাত্মক বক্তব্য দ্রুত ছড়ায় উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল যুগে ঘৃণাত্মক বক্তব্য আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত ছড়ায়। নিয়ন্ত্রণহীন প্ল্যাটফর্মগুলো এটিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এটিকে আরও তীব্র করে। অনেক অ্যালগরিদম ক্ষোভ ও বিভাজনকে পুরস্কৃত করে। ‘লাইক’ পাওয়ার জন্য মিথ্যাকে উৎসাহ দেয় এবং ‘ভিউ’ পাওয়ার জন্য সহিংসতাকে সামনে আনে।

অনলাইনে গোপন পরিচয়ও অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা আরও কঠিন করে তোলে বলে জানান আন্তোনিও গুতেরেস।

বাস্তবসম্মত সমাধানের মাধ্যমে এই বিপজ্জনক চক্র ভাঙা সম্ভব উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, ‘ঘৃণাত্মক বক্তব্যকে শনাক্ত করে সেটিকে প্রত্যাখ্যানের শিক্ষা, নির্যাতনের শিকারদের সহায়তা এবং সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আরও শক্তিশালী হস্তক্ষেপে এর সমাধান করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে রাষ্ট্রগুলোর স্পষ্ট দায়িত্ব রয়েছে ঘৃণা উসকে দেওয়া প্রতিরোধ করা এবং অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি উন্নীত করা।

তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই ক্ষতিকর বার্তার অজুহাত হতে পারে না।

তিনি বলেন, ঘৃণাত্মক বক্তব্য বিষয়ে জাতিসংঘের কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা আমাদের পথ দেখায়। তথ্যের সততা সম্পর্কিত বৈশ্বিক নীতিমালা আরও নিরাপদ ও নৈতিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ার রূপরেখা দেয়।