গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়বে, এটা নিয়ে চিন্তিত নই: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে মার্কিন গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সের প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সামরিক অভিযান তার অগ্রাধিকার। ট্রাম্প বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়বে, এটা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। যুদ্ধ শেষ হলে দাম দ্রুত কমবে, আর যদি বাড়েও তবুও সামরিক অভিযান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এই মন্তব্য ট্রাম্পের স্বর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গত মাসে তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ এবং বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি গ্যাসের দাম কমানোর কথাও বলেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গ্যাসের দাম বাড়লে রিপাবলিকানদের ক্ষতি হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, দাম বৃদ্ধি কমানোর জন্য ট্রাম্পের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিকল্প সমাধান নিয়ে আলোচনা করছেন। একজন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও জাতীয় নিরাপত্তা দলের মধ্যে দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের সামরিক অভিযান পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু সরকার এখনও চূড়ান্ত লক্ষ্য স্পষ্ট করেনি। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে অর্থ তুলবেন না এবং হরমুজ প্রণালি খোলা থাকার আত্মবিশ্বাসী।
গত সোমবার থেকে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গড় গ্যাসের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ২৫ ডলার হয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৫ সেন্ট বেশি। ট্রাম্প বলছেন, খরচ ‘খুব বেশি বাড়েনি’।
এদিকে হোয়াইট হাউস আশা করছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং তার ফলে পেট্রোল পাম্পে দাম বৃদ্ধি কেবল সাময়িক হবে।
দুই অভ্যন্তরীণ উপদেষ্টা বলেছেন, জ্বালানি বাজারে প্রাথমিক প্রভাব অনেকের আশঙ্কার তুলনায় কম তীব্র ছিল, এবং তারা ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা সতর্ক করেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের যে কোনো ব্যর্থ হস্তক্ষেপ বাজারকে অস্থির করতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, প্রশাসন জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির মোকাবিলায় একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত একমাত্র ব্যবস্থা হলো তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য মার্কিন-সমর্থিত ঝুঁকি বীমা এবং হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য নৌ-প্রহরী সরবরাহ নিশ্চিত করা।
তিনজন জ্বালানি নির্বাহী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের কাছে তেলে দাম কমানোর খুব সীমিত বিকল্প রয়েছে। একজন নির্বাহী বলেছেন, ‘নীতি বা বিকল্পগুলোর তালিকা সহায়ক হতে পারে। কিন্তু খুব বেশি ভিন্ন কিছু করা সম্ভব নয়। মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্রানজিট পুনরুদ্ধার করা।’