logo
Advertisement

মুসলিম কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা: সন্দেহভাজন যুবকের ভাইকে চাকরি দিলেন শুভেন্দু

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,কলকাতা
মুসলিম কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা: সন্দেহভাজন যুবকের ভাইকে চাকরি দিলেন শুভেন্দু
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয়বারের মতো বারুইপুর পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূর্যপুরে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বড় ভাইকে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ইন্দ্রজিৎ গণপিটুনিতে নিহত হয়।

Advertisement

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বারুইপুরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রথমে নিহত কিশোরীর বাড়িতে যান। তার পরিবারের সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট আলাপ করেন। সেখান থেকে সরাসরি চলে যান গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিতের বাড়িতে।

মুখ্যমন্ত্রী তার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইন্দ্রজিতের বড় ভাইয়ের হাতে সরকারি সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। নিয়োগপত্র পেয়ে ইন্দ্রজিতের বড় ভাই জানান, এই উদ্যোগে তাদের পরিবার আপাতত খুশি এবং মুখ্যমন্ত্রী তাদের ভালো থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

এরপর মুখ্যমন্ত্রী সূর্যপুরে নবনির্মিত পুলিশ ফাঁড়ির (আউটপোস্ট) উদ্বোধন করেন। এই ফাঁড়িতে আপাতত দুজন এসআই, চারজন এএসআই এবং চারজন মহিলা পুলিশসহ মোট ২০ জন কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া এখানে একটি কন্ট্রোল রুম ও নারীদের সহায়তার জন্য বিশেষ ‘উইমেন হেল্প ডেস্ক’ থাকবে।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে এবং এই ফাঁড়ি থেকেই তা সরাসরি মনিটরিং করা হবে।

ফাঁড়ি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, নাম-পরিচয় দেখে ইন্দ্রজিৎকে মারা হয়েছে। যারা ভোটে হেরেছে, তারা এই কাজটা করেছে। এর পেছনে ধর্মীয় মৌলবাদীরাও থাকতে পারে। নির্দোষ ইন্দ্রজিতের খুনিদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না এবং জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া হবে।

এলাকায় পুলিশের ব্যাপক অভিযান ও ধরপাকড় প্রসঙ্গে স্থানীয়দের উদ্বেগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে রেললাইনে যারা লোহার বিম ফেলছিলেন, তারা কেউ ভারতপ্রেমী হতে পারেন না। ওটা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ।’

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রথমবার বারুইপুরে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করেছিলেন ও এই সহিংসতার পেছনে সাম্প্রদায়িক উসকানি থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপরই পুলিশ উসকানিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পাঁচ দিন কেটে গেলেও পুরো সূর্যপুর এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

তারও আগে ৪ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুরের এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরদিন একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ওঠে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ শুরু করে এবং সন্দেহবশত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামের এক যুবককে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

যদিও মৃত্যুর আগে ওই যুবক নিজেকে বারবার নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন। পরে পুলিশের গুলিতে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল নিহত হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।