logo

ইরানে উ. কোরিয়ার অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে যে তথ্য দিল দ. কোরিয়া

ইরানে উ. কোরিয়ার অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে যে তথ্য দিল দ. কোরিয়া

চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সক্ষমতায় নতুন বিস্ময় তৈরি হয়েছে পুরো বিশ্বে। তেহরানকে দমনে নিজেদের বিভিন্ন কৌশল বা নিষেধাজ্ঞা আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় একের পর এক পরাশক্তির দেশের উপর দায় চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। 

যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়া ও চীন ইরানকে সহায়তা করছে বলে দাবি করেছিল ওয়াশিংটন। সম্প্রতি ইরানের ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে যখন কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের কবলে পড়ে তখন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের তীর ছুটে গেল উত্তর কোরিয়ার দিকে। 

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের কারণে পিয়ংইয়ং ও তেহরানের সম্পর্ক ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও সামরিক সহযোগিতার ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। চলমান ইরান যুদ্ধেও কিম জং উনের প্রশাসন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কের সুযোগ ধরে রাখতে ইরানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছে উত্তর কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) সোমবার (৬ এপ্রিল) সে দেশের আইনপ্রণেতাদের এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এনআইএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া তেহরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্র সরবরাহ করেনি। এমনকি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে পিয়ংইয়ং কোনো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা পাঠায়নি। এছাড়া নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পরও অভিনন্দন বার্তা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। 

দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা পার্ক সুন-ওয়ান জানান, যেখানে রাশিয়া ও চীন এই সংঘাত নিয়ে নিয়মিত সোচ্চার রয়েছে, সেখানে উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের এহেন পদক্ষেপের কারণ সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরাগভাজন না হওয়ার একটি সুচিন্তিত কৌশল।

গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই কৌশলী নীরবতার মূলে রয়েছে আগামী মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বৈঠক। পিয়ংইয়ং আশা করছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত থামলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার একটি নতুন জানালা খুলবে। 

গত ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে কিম জং উন নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের পারমাণবিক শক্তিকে স্বীকৃতি দেয় এবং প্রতিকূল নীতি পরিহার করে, তবে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরিতে কোনো বাধা নেই।

রয়টার্স বলছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে উত্তর কোরিয়া তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শিল্প উপকরণের ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতির ফলে দেশটি এখন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির ওপর জোর দিচ্ছে।