logo

হাদি হত্যার অভিযুক্তরা ভারতে এলো কী করে, প্রশ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের

হাদি হত্যার অভিযুক্তরা ভারতে এলো কী করে, প্রশ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সঙ্গী আলমগীর হোসেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। হওয়ার পর ওই রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস দল প্রশ্ন তুলেছে যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অধীনে থাকা বিএসএফের নজর এড়িয়ে ওই দুই অভিযুক্ত ভারতে কী করে প্রবেশ করল?

তবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি অভিযোগ করেছে, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের দুষ্কৃতিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে দুই অভিযুক্ত ভারতে প্রবেশ করেছেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে, যেখানে বিজেপির শরিক সরকার ক্ষমতায় আছে।

তিনি বলেন, অমিত শাহ ব্যর্থ হয়েছেন আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে। অবশেষে মমতা ব্যানার্জির পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে দুই অভিযুক্তকে।

তিনি অভিযোগ করেন যে, মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পথে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য রয়েছে। দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় আছে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার। দুই রাজ্যের পুলিশ আর অমিত শাহর বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে দুষ্কৃতিরা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তবে ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অভিযোগ করছেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের দুষ্কৃতিদের জন্য একটা ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হয়ে উঠেছে।

তার কথায়, শুধু হাদি হত্যাকাণ্ডে যারা অভিযুক্ত তারা নয়, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বা অন্যান্য দেশের অপরাধীরা যারা পালিয়ে এসেছেন, তাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ একটি সেফ হ্যাভেনে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০০ কিলোমিটারের মতো পোরাস বর্ডার… সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে (রাজ্যের তরফে) যেভাবে জমিগুলো দেওয়া হয়েছে, সেটাতে বিএসএফ সন্তুষ্ট নয়।

এদিকে, ভারতে গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই শেষে প্রয়োজনে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে রিকশায় যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান হাদি। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গত শনিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। সীমান্তঘেঁষা পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স।