logo

যুদ্ধ ৪০ দিন ছাড়ালে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হুঁশিয়ারি

যুদ্ধ ৪০ দিন ছাড়ালে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হুঁশিয়ারি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হলে খাদ্যপণ্যে পরোক্ষ প্রভাব পড়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে চাল ও শস্যের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় দাম কিছুটা সহনীয় রয়েছে। তবে যুদ্ধের মেয়াদ ৪০ দিন পার হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এফএও সতর্কবার্তা দিয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত মার্চ মাসেই বিশ্ব খাদ্য মূল্য সূচক ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি মূলত এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সারের দামবৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারেন। এমনটি ঘটলে চলতি বছরের বাকি সময় এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় গমের আবাদ কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে গমের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে পাম তেলসহ ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

এছাড়াও জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় চিনির বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মার্চ মাসেই চিনির দাম ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবৃতিতে এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তেলের দাম বাড়লে ব্রাজিল তাদের উৎপাদিত আখ থেকে চিনি তৈরির বদলে ইথানল বা জৈব জ্বালানি তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দেবে। পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় মাংসের দামও গড়ে ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে কিছুটা আশার কথা শুনিয়ে এফএও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে শস্য উৎপাদন রেকর্ড ৩ দশমিক ০৩৬ বিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও লোহিত সাগরের অস্থিরতা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এই উৎপাদন এবং বণ্টন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে নিত্যপণ্যের দাম।

সূত্র: রয়টার্স