logo

রোবটের কাছে রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণ, বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ

রোবটের কাছে রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণ, বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ

২০২৪ সালের পর থেকে যুদ্ধের ময়দানে ‘আনম্যানড গ্রাউন্ড ভেহিকেলস’ (ইউজিভি) বা চালকবিহীন স্থলযানের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। ইউক্রেন সেনারা দাবি করেছেন, কিছুদিন আগে রুশ সেনারা তাদের একটি সশস্ত্র গ্রাউন্ড রোবটের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ইউক্রেনের তৃতীয় আর্মি কোরের লেফটেন্যান্ট ভিক্টর পাভলোভ জানান, আধুনিক যুদ্ধ এখন সম্পূর্ণ রোবটনির্ভর হয়ে পড়ছে। এই রোবটগুলো বিভিন্ন আকারের হয়, কোনোটি ট্যাংক বিধ্বংসী মাইন বহন করে, কোনোটি চাকা বা অ্যান্টেনা বিশিষ্ট, আবার কোনোটি কামিকাজে ড্রোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের ৯০ শতাংশই সম্পন্ন হচ্ছে রোবটের মাধ্যমে। শত্রুপক্ষের ড্রোনের নজরদারি এড়িয়ে খাবার, গোলাবারুদ এবং আহত সৈন্যদের সরিয়ে নিতে এই চালকবিহীন যানগুলো অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

রোবটগুলো এখন শুধু মালপত্রই বহন করছে না, বরং এগুলোতে রিমোট কন্ট্রোল মেশিনগান এবং গ্রেনেড লঞ্চার যুক্ত করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের এই ড্রোন প্রযুক্তির চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সম্প্রতি সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যার অধীনে ইউক্রেন তাদের স্বল্পমূল্যের ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করবে। এগুলো ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভ এই অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, ‘যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মানুষ পাঠানো অসম্ভব, সেখানে এখন রোবট পাঠানো হচ্ছে।’ যদিও ইউক্রেন প্রতিদিন গড়ে তিনটি রোবট হারাচ্ছে, তবুও পাভলোভের মতে, ‘সেনাদের জীবনের তুলনায় এই মূল্য সামান্য।’

ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার চেয়ে গ্রাউন্ড রোবট প্রযুক্তিতে এগিয়ে আছে বলে দাবি করছে কিয়েভ। তৃতীয় কোরের কমান্ডার আন্দ্রি বিলেটস্কির মতে, এই রোবট আগামীতে রণক্ষেত্রের চিত্র আমূল বদলে দেবে এবং যুদ্ধের একটি বড় অংশে মানুষের জায়গা দখল করবে।