ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৪ ক্রু নিহত, নিখোঁজ ২

পশ্চিম ইরাকে মার্কিন বাহিনীর একটি রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চারজন ক্রু নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) এ খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ ঘটনায় বিমানে থাকা বাকি দুইজন ক্রু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
গত ১২ মার্চ স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে কেসি-১৩৫ মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে মোট ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধারকারীরা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাকি দুই সদস্যের সন্ধানে অভিযান এখনও চলছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
শুক্রবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সামরিক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, কোনো শত্রুর আক্রমণ কিংবা নিজেদের পক্ষের কোনো ভুলের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেনি। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এটি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন সামরিক নীতি অনুযায়ী, নিহতদের নিকটাত্মীয়দের এই মর্মান্তিক সংবাদ জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, তাদের একটি কেসি–১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’–এর সময় বন্ধুত্বপূর্ণ আকাশসীমার ভেতরে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানায় তারা। ওই সময় একসঙ্গে থাকা দুই বিমানের একটি বিমান নিরাপদে অবতরণ করার তথ্য নিশ্চিত করে সামরিক বাহিনী।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। চারজন ক্রুরর মৃত্যুর খবরে নিহতের সংখ্যা আরও বড় হলো।
গত ১ মার্চ আরেক ঘটনায় তিনটি এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভুলবশত কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে ভূপাতিত হয়। তবে ওই ঘটনায় বিমানগুলোর ছয়জন ক্রু সদস্য নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির ভেতরে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবও দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম সংঘাত যেখানে শুরু থেকেই জনসমর্থন তুলনামূলক কম।