ইসরায়েলের সঙ্গে ‘যোগাযোগের’ অভিযোগ, ৪ ইরানি রাজনীতিবিদ গ্রেপ্তার

চলতি বছরের শুরুতে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ‘দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট’ করার চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়ের ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বার্থে’ কাজ করার অভিযোগও রয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পরিচিত সংস্কারপন্থি রাজনীতিক।
তারা হলেন ইরানের সংস্কার ফ্রন্টের প্রধান আজার মানসুরি, সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসেন আমিনজাদেহ ও সাবেক এমপি ইব্রাহিম আসগারজাদেহ। চতুর্থ ব্যক্তির পরিচয় এখনও জানানো হয়নি। খবর আলজাজিরার।
ইরানের সংস্কার ফ্রান্ট এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বিবৃতিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, ইরান রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিচারিক আদেশে আজার মানসুরিকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি সংগঠনের ডেপুটি চেয়ারম্যান মোহসেন আরমিন, সেক্রেটারি বদরাল সাদাত মফিদিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে তলব করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা মিজান জানায়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক হুমকি’র মধ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে তারা সংগঠিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের দাবি, বিক্ষোভের সময় ‘সহিংস কর্মকাণ্ড’কে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন তারা।
গত মাসে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রথমে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদ হিসেবে তেহরানে শুরু হলেও পরে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দমন-পীড়নের পথে এগোয় ইরান সরকার। এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সরকারের মসনদ নড়বড়ে করে তোলে। কয়েক শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে সাজার মুখোমুখি নিতে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছিল তেহরান।
ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিলেও, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সরকারি স্থাপনা দখলে নিতে আন্দোলনকারীদের উসকে দেয়। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপকে ‘দাঙ্গা’ বলে অভিহিত করে তেহরান এবং দেশ দুটিকে এ কারণে দায়ীও করা হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ের অস্থিরতায় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। আরও বহু ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে, এই দমন-পীড়নের ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার হুমকি দেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌবহর মোতায়েন করেন।
এই পরিস্থিতিতে খামেনি ইরানে হামলা হলে তা ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন। উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ওমানে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই আলোচনাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আগামী সপ্তাহে আলোচনার দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে হামলা হলে পুরো অঞ্চল সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। তবে তিনি বলেন, ইরান আঞ্চলিক যুদ্ধ চায় না।