কুয়েতে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল

কুয়েতের সরকারি গেজেট কুয়েত আল ইয়ৌমে প্রকাশিত ছয়টি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৪১৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) গেজেটে প্রকাশিত এসব অধ্যাদেশের আওতায় নির্ভরশীল সূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও পড়েছেন।
গেজেটে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব হারানোদের মধ্যে রয়েছেন কুয়েতের আবাসন খাতের পরিচিত ধনকুবের ব্যবসায়ী মাহমুদ হায়দার। তিনি জুমুরুদ হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান এবং কয়েকটি স্থানীয় ব্যাংকে তাঁর বিপুল পরিমাণ শেয়ার রয়েছে।
অধ্যাদেশ নং ১৫৫ এ ছয়জন, ১৫৬ এ ২৮৬ জন, ১৫৭ এ ১৪ জন নারী, ১৫৮ এ ২৫ জন, ১৫৯ এ ৪১ জন এবং ১৬০ এ ৪৩ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় তালিকা ১৫৬ নম্বর অধ্যাদেশের। নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তিদের ওপর নির্ভরশীলদের অন্তর্ভূক্ত করলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আমিরের নামে জারি করা এই অধ্যাদেশগুলো গত সেপ্টেম্বরে আল সাইফ প্রাসাদে স্বাক্ষরিত হয়। এগুলো কার্যকর করার দায়িত্বে রয়েছেন প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৯৫৯ সালের নাগরিকত্ব আইনের ২১ ধারার (ক) অনুচ্ছেদে জালিয়াতি, মিথ্যা বিবৃতি বা ভুল সাক্ষ্যের মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্ব সনদ প্রত্যাহারের সুযোগ আছে। কুয়েতের আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বও নিষিদ্ধ।
এটি দেশটির জাতীয় নাগরিকত্ব পর্যালোচনার ধারাবাহিক অভিযানের অংশ। ২০২৫ সালে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। চলতি বছরের জুনে আটটি অধ্যাদেশে আরও দুই হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, এই পর্যালোচনায় কেউ ছাড় পাচ্ছেন না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, এই অভিযানে কিছু মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে বিয়ের সূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া নারী।
কুয়েতের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ, যার বড় অংশই প্রবাসী। দেশটির এই কঠোর অবস্থানের পেছনে জাতীয় পরিচয় রক্ষার যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
