দুর্নীতিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে ইন্দোনেশিয়া, ফেঁসে যাচ্ছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা

দেশজুড়ে দুর্নীতিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দেশ ইন্দোনেশিয়া। আর এই অভিযানে একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তারা ফেঁসে যাচ্ছেন। ধারাবাহিক অভিযানে এবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেশটির অভিবাসন বিষয়ক উপমন্ত্রী সিলমি করিমকে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেপিকে-র মুখপাত্র বুদি প্রাসেত্যো।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, অভিবাসন সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগে সিলমি করিমকে গ্রেপ্তার করেছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন (কেপিকে)। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
বুদি বলেন, ২০২৩-২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর সরকারের অভিবাসন বিষয়ক মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় করা দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার রাতে করিমকে কেপিকে কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাতকড়া ও একটি কমলা জ্যাকেট পরিয়ে হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, কেপিকে এই মামলায় আরও সাতজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে।
প্রাবোও কর্তৃক বরখাস্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে
আগের দিন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অপুষ্টি মোকাবিলায় বিনামূল্যের খাদ্য কর্মসূচি তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার সাবেক প্রধান দাদান হিন্দায়ানাকে দুর্নীতির অভিযোগে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় (এজিও) গ্রেপ্তার করেছে। এই মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রাবোও কর্তৃক বরখাস্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারেও কম সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে দাদানের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ২১ হাজারের বেশি ইলেকট্রিক মোটরবাইক, ৩২ হাজার জোড়া জুতো এবং ৫ হাজার ৪০০টি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সামগ্রী বর্ধিত মূল্যে কেনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
স্কুলের বিনামূল্যে খাবার কর্মসূচি পরিচালনাকারী ফাউন্ডেশনগুলোকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন তদন্তকারীরা। এজিও তদন্ত পরিচালক শরীফ সুলাইমান নাহদির দাবি, এই কল্যাণমূলক প্রকল্পের আড়ালে মূলত অপরাধ চক্রকে নানাভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল।
এর আগে, নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ছয় দিনের মাথায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ইন্দোনেশিয়ার প্রধান ন্যায়পাল, যিনি আইনসভা বা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে একটি স্থানীয় নিকেল কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সচিবালয়ের মন্ত্রী প্রাসেটিও হাদি বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, গত দুই দিনে বারবার ঘটে চলা অপ্রত্যাশিত ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও বলেন, সরকার কেপিকে ও এজিও-র আইনি কার্যক্রমকে সম্মান করে।
