যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজার ওপর কড়াকড়ি শিথিল

যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নীতিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক ঘোষণায় মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, ম্যারিজুয়ানা বা গাঁজাজাতীয় পণ্যের ওপর থেকে কড়াকড়ি শিথিল করা হচ্ছে। একে এখন কম বিপজ্জনক মাদকের তালিকায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মারিজুয়ানাকে হেরোইনের মতো অতি আসক্তিযুক্ত মাদকের তালিকা থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধের তালিকায় (যেমন—সাধারণ ব্যথানাশক বা টেস্টোস্টেরন) অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে যদিও পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই মাদকটি বৈধতা পাচ্ছে না, তবে এতে করে গাঁজা নিয়ে গবেষণা সহজ হবে, ব্যবসায়ীদের করের বোঝা কমবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সহজ হবে।
গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক নির্বাহী আদেশের সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, সিবিডি পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের উচিত আইন আরও আধুনিক করা।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক রাজ্যে বর্তমানে ব্যক্তিগতভাবে এবং প্রায় সব রাজ্যে চিকিৎসার প্রয়োজনে গাঁজা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ গাঁজার বাজার ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম এক লাফে ৬ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। তবে সরকারের এই পদক্ষেপের আওতা সীমিত হওয়ায় পরে শেয়ারের দাম আবার কিছুটা কমেছেও।
সবাই অবশ্য বিচার বিভাহের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাননি। রিপাবলিকান সিনেটর টম কটনসহ অনেক সমালোচক মনে করেন, মারিজুয়ানার ওপর কড়াকড়ি শিথিল করলে সমাজে অপরাধ ও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়তে পারে। তাছাড়া পণ্যটি মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।