সৌদির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি আরও কিছু এলাকা দখলের চেষ্টার মধ্যেই এসব হামলার দাবি করা হলো।
হুতিদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
সংগঠনটির আরেকটি পোস্টে বলা হয়, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজান এলাকায় সৌদি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে সোমবার হুতিরা অভিযোগ করেছিল, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। জাওফ প্রদেশের একটি কারাগারে চালানো হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করে তারা। হুতি-সমর্থিত সূত্রের দাবি, ওই হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন বন্দি নিখোঁজ রয়েছেন।
হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কারাগারে স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা একটি শিশুও ছিল।
এদিকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে হুতিরা।
বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে সংঘাত বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুতিদের হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং কিছু স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
তবে হুতিদের হামলার দাবির পাশাপাশি ইয়েমেনে সৌদি হামলা ও হতাহতের বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


