logo

সরকারের উদ্যোগে বেশি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন জাপানিরা

সরকারের উদ্যোগে বেশি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন জাপানিরা

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশগুলো যেখানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টায় মরিয়া, সেখানে সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের পরিস্থিতি ঠিক তার উল্টো। সেখানে জনসংখ্যা কমছে, আর এই সংকট কাটাতে জন্মহার বাড়াতে মরিয়া দেশটির সরকার। অবশেষে দীর্ঘ এক দশক পর সেই দুশ্চিন্তা কাটিয়ে টোকিও থেকে এলো স্বস্তির খবর, ১০ বছর পর দেশটিতে জন্মহার বেড়েছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য জাপান নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জাপানের রাজধানী টোকিওতে ৭৭ হাজার ৩৭৫ জাপানি শিশুর জন্ম হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় শূন্য দশামক ৭ শতাংশ বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, পুরো বছরের হিসাব করলে এই সংখ্যা ২০২৪ সালের মোট জন্মহারকে ছাড়িয়ে যাবে। আর এই সুখবরের জন্যই গত ১০ বছর ধরে অপক্ষো করছিল জাপান সরকার।

এই সুখবর সারা দেশের জনগণকে জানাতে গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে। সেখানে তিনি একইসঙ্গে আরেকটি সুখবর দেন জাতিকে। তা হলো, গত দুই বছর ধরে জাপানে বিয়ের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গভর্নর কোইকের মতে, সরকারের নেওয়া বিশেষ কিছু পদক্ষেপই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।

এখানেই শেষ নয়। যারা বিয়ে করতে চায় কিংবা সন্তান জন্ম দিতে আগ্রহী তারা যেন কোনো দুশ্চচিন্তা বা নির্ভয়ে পদক্ষেপ নেন, সেজন্য গভর্নর বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাপান সরকার সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। আমরা পাশে আছি বলেই মানুষ এখন নতুন করে পরিবার গড়ার সাহস পাচ্ছে।

এদিকে টোকিওতে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের জন্মহারও অন্তর্ভুক্ত করে জাপান সরকার। এতে দেখা গেছে, জন্মহারের চিত্র আরও বড় হয়ে ওঠেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিদেশিদের মিলিয়ে টোকিওতে জন্মহার বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। গত ৯ বছরে এই হিসাব সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে।

জাপান নিউজ বলছে, ২০২৫ সালের পুরো বছরের চূড়ান্ত তথ্য চলতি বছরের জুন মাসের শুরুর দিকে প্রকাশ করা হবে। তবে বর্তমান এই ধারা দেখে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, জাপানের জনসংখ্যা সংকট হয়তো ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে।