ইরানের তিন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সিরিজ হামলা

ইরানজুড়ে নতুন করে ব্যাপক মাত্রায় সিরিজ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
সোমবার (৬ এপ্রিল) পৃথক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইরানের তিনটি বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। আলজাজিরার খবর জানায়, ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ওই বিমানবন্দরগুলোকে সামরিক অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহার করছিল ইরান।
ইসরায়েলি বাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের বাহরাম বিমানবন্দর, মেহরাবাদ বিমানবন্দর ও আজমায়েশ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে তারা। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এসব হামলায় কয়েক ডজন ইরানি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হামলার শিকার মেহরাবাদ বিমানবন্দর তেহরানের প্রধান অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর। ইসরায়েলি দাবি অনুযায়ী, এটি কুদস ফোর্সের অস্ত্র ও অর্থ স্থানান্তরের হাব হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা। ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ক্রমাগত চাপে ফেলছে শত্রুপক্ষকে। এবার নিজেদের অতর্কিত হামলায় পিছু হটতে বাধ্য করেছে মার্কিন বাহিনীকে। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে আইআরজিসি।
আলজাজিরা জানায়, আইআরজিসির সশস্ত্র যোদ্ধারা মার্কিন উভচর ও আক্রমণকারী জাহাজ এলএইচএ-৭ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হামলা প্রতিহত করতে না পেরে জাহাজটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ ছাড়াও এসডিএন-৭ নামের একটি কনটেইনারবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে আইআরজিসি। জাহাজটি ইসরায়েলের মালিকানাধীন বলে দাবি করেছে ইরান। তবে জাহাজটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ বেশ তীব্র হয়ে উঠেছে। স্থল অভিযানের শঙ্কা দিনকে দিন ঘনীভূত হচ্ছে। সামুদ্রিক আক্রমণও বেড়েছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দেখে দিয়েছে অস্থিরতা। এতে করে সংঘাতে আগ বাড়িয়ে লিপ্ত হওয়ায় ক্রমশ কূটনৈতিক চাপে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র।