logo

আদালতের প্রকাশিত এপস্টেইনের ‘সুইসাইড নোটে’ কী লেখা আছে

আদালতের প্রকাশিত এপস্টেইনের ‘সুইসাইড নোটে’ কী লেখা আছে
মার্কিন ধনকুবের ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সাত বছর লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর অবশেষে সামনে এলো কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের একটি কথিত ‘সুইসাইড নোট’।

বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচারকের নির্দেশে এই নথি জনসমক্ষে আনা হয়। এই চিঠিতে তদন্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি নিজের মৃত্যু নিয়ে রহস্যময় মন্তব্য করেছেন এই দণ্ডিত যৌন অপরাধী।

উদ্ধারকৃত চিরকুটটিতে কোনো স্বাক্ষর বা তারিখ নেই। ফলে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইনের সাবেক এক জেলখানার সেল তথা কক্ষসঙ্গী এই মামলায় যুক্ত ছিলেন। ওই রুমমেটের দাবি, তিনি চিরকুটটি খুঁজে পেয়েছেন।

কী লেখা আছে চিরকুটে:

চিঠিতে ছোট ছোট কয়েকটি বাক্যে এপস্টেইন লেখেন, ‘তারা মাসখানেক ধরে আমার পেছনে লেগে ছিল, কিন্তু কিছু পায়নি!!!’

জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘বিদায় জানানোর জন্য নিজের সময় বেছে নিতে পারাটা একটা তৃপ্তির বিষয়।’

আরেক বাক্যে তিনি লেখেন, ‘এতে কোনো আনন্দ নেই, কোনো সার্থকতা নেই।’

কীভাবে পাওয়া গেল এই চিঠি?

এপস্টেইনের সঙ্গে জেলখানায় কক্ষসঙ্গী ছিলেন নিকোলাস টারট্যাগ্লিওন। তিনি পেশায় ছিলেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। তার দাবি, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইন যখন প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, তখন তিনি তাকে বাঁচিয়েছিলেন। পরে নিজের বইয়ের ভেতরে এপস্টেইনের হাতে লেখা এই চিরকুটটি পান তিনি।

টারট্যাগ্লিওনের আইনজীবীদের দাবি, হাতের লেখা বিশেষজ্ঞরা এই নোটটি আসল বলে নিশ্চিত করেছেন।

এর কয়েক সপ্তাহ পরে যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাকে তার সেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। একজন মেডিকেল পরীক্ষক জানিয়েছিলেন, তার মৃত্যু আত্মহত্যায় হয়েছে।

বুধবার আদালতের এই নথি প্রকাশের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বিচার বিভাগ বলেছে, তারা এপস্টেইন সংক্রান্ত তাদের হেফাজতে থাকা লাখ লাখ নথিপত্র প্রকাশ করেছে।

এর আগে একটি কথিত ‘সুইসাইড নোটের’ অস্তিত্বের কথা প্রথম জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। গত সপ্তাহে পত্রিকাটি জানায়, এই নোটটি প্রায় সাত বছর ধরে জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। টাইমস জেলা জজ কেনেথ কারাসকে ওই চিরকুট এবং কক্ষসঙ্গীর অপরাধমূলক মামলা সংক্রান্ত অন্যান্য নথি প্রকাশের অনুরোধ করেছিল। বিচার বিভাগ এই স্বচ্ছতার বিষয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি।

গত সোমবার বিচার বিভাগ বিচারক কারাসকে লিখেছেন, ‘আনসিলিং মোশনে (নথি প্রকাশের আবেদন) বর্ণিত এপস্টেইনের মৃত্যু ঘিরে থাকা পরিস্থিতির বিষয়ে জনসাধারণের জোরালো আগ্রহ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে যেহেতু সরকারের কাছে ওই মোশনে বর্ণিত ঘটনার নির্ভুলতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, তাই সরকার আদালতের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিচ্ছে।’

এর মাধ্যমে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, কথিত চিরকুটটি আসল কি না তা তারা জানে না। সিএনএন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিচার বিভাগের (ডিওজে) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

এপস্টেইনের মৃত্যুর পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র এবং ঘটনা সম্পর্কে জানে এমন একটি সূত্র তখন সিএনএনকে বলেছিল, ম্যানহাটনের জেল সেলে এপস্টেইনের গলায় দাগ পাওয়া গিয়েছিল।

টারট্যাগ্লিওন গত বছর ইনফ্লুয়েন্সার ও লেখক জেসিকা রিড ক্রাউসকে বলেছিলেন, ‘জেফরি এপস্টেইন যখন আমার সঙ্গে সেলে ছিলেন তখন তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। আমি জেগে উঠি ও সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচাই। আর বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য জেফরি এপস্টেইন একটি সুইসাইড নোট লিখেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নোটটি আমার বইয়ের ভেতরে ছিল। হ্যাঁ, আমি যখন সেলে ফিরে আসি এবং পড়ার জন্য বই খুলি, তখনই এটি পাই। এপস্টেইন নোটটি লিখেছিলেন এবং বইয়ের ভেতরে গুঁজে দিয়েছিলেন।’

গত মাসের শেষের দিকে বিচারকের কাছে নোটটি জনসমক্ষে আনার পক্ষে যুক্তি দেওয়ার সময় টাইমস এই বক্তব্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই নানা রহস্য দানা বেঁধেছে। যদিও মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুযায়ী তাকে হত্যা করা হয়েছিল। প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টার পর এপস্টেইন দাবি করেছিলেন, তাকে মারধর করা হয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীদের কাছে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মরতে চাই না, আমি মামলা লড়ে জীবনে ফিরতে চাই।’ কিন্তু এর কয়েক সপ্তাহ পরেই তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

এপস্টেইন শুরুতে টারট্যাগ্লিওনকে তাকে হত্যার চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন, কিন্তু পরে তিনি সেই জবানবন্দি প্রত্যাহার করে নেন। ‘পোস্ট সুইসাইড ওয়াচ রিপোর্ট’ নামক একটি নথি অনুযায়ী, এর কয়েক দিন পর তিনি একজন কারাগার মনোবিজ্ঞানীকে বলেছিলেন, টারট্যাগ্লিওন তাকে আঘাত করার হুমকি দেননি। পরে জানান, তার সেই ঘটনার কথা মনে নেই।

বিচার বিভাগ এই নোটটি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি জানায়নি। তবে চিরকুটটি শতভাগ নির্ভুল কি না, সে বিষয়ে তারা দায় নেয়নি। এপস্টেইনের মৃত্যু ঘিরে জনগণের ব্যাপক আগ্রহের কারণে বিচারক এই নথিটি প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। যদিও গত বছর বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, এপস্টেইনকে হত্যার কোনো প্রমাণ সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া যায়নি।