হ্যাকিংয়ে চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ উদ্ধারের দাবি বাইন্যান্সের

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলার ঘটনায় চুরি হওয়া ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের ৯০ শতাংশ পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স। বাকি ১০ শতাংশের সমপরিমাণ সম্পদ উদ্ধার করতে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাইন্যান্সের দেওয়া বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘এই চুরি হওয়া তহবিলের আর্থিক প্রভাব বাইন্যান্সই বহন করবে, আমাদের ব্যবহারকারীরা নয়।’
বাইন্যান্স জানিয়েছে, বিভিন্ন তহবিল ও নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক কোষাগার থেকে অর্থ ব্যবহার করে চুরি হওয়া সম্পদের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে। এর আওতায় বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ও টেথারের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির পাশাপাশি বহুল ব্যবহৃত আরও সাত ধরনের ক্রিপ্টো সম্পদ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের সেবা আবার চালু করা। বাইন্যান্স জানিয়েছে, ১ নভেম্বর (রোববার) থেকে অর্থ উত্তোলন চালুর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত হলে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।
গত ২৯ অক্টোবর ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হওয়া ক্ষতির পুরোটা বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাইন্যান্স। এ জন্য কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আলাদা করে রাখা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। বাইন্যান্সের এই ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক করে অননুমোদিতভাবে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী এক হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা আরও কিছু নিরাপত্তা লঙ্ঘনের সূত্র খুঁজে পেয়েছে।
বাইন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেন, একাধিক ব্যক্তি এই হ্যাকিংয়ে জড়িত ছিলেন। তাদের কার্যক্রমের চিহ্ন মুছে ফেলতে হ্যাকাররা ‘সেলফ-ডেস্ট্রাক্ট মেকানিজমের’ মতো অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।


