logo

গাজায় ত্রাণসামগ্রী আটকে দিল ইসরায়েল

গাজায় ত্রাণসামগ্রী আটকে দিল ইসরায়েল
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে একটি ফ্লোটিলা বোটে থাকা কর্মীরা ইসরায়েলি সেনাদের বাধার মুখে হাত উঁচিয়ে আছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সাহায্য নিয়ে যাওয়ার পথে কয়েক ডজন নৌকা আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গাজাগামী এই সাহায্য বহর বা ফ্লোটিলাকে প্রতিহত করতে সোমবার (১৮ মে) একটি পূর্ণসজ্জিত নৌবহর পাঠিয়েছে ইসরায়েল।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা মঙ্গলবার (১৯ মে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাইপ্রাসের অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় শত শত আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। একইসঙ্গে তাদের নৌকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে ইসরায়েলের সশস্ত্র সেনারা স্পিডবোট ব্যবহার করে অভিযান চালায় ও শত শত অধিকারকর্মীকে আটক করে।

দুই সপ্তাহ আগে, গ্রিস উপকূলে একই সাহায্য বহরের ২২টি জাহাজ আটকে দিয়ে ১৮১ জন স্বেচ্ছাসেবককে আটক করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে এই অভিযানে অংশ নেওয়া নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ আলজাজিরাকে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো এই অভিযানে বেশ কয়েকজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক আটক হয়েছেন। তাদের বর্তমান অবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরিভিত্তিতে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

অস্ট্রেলীয় সরকারের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, আটককৃতদের সঙ্গে যেন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবিক আচরণ করা হয়, সেটি আমরা স্পষ্ট ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেছি। তবে একইসঙ্গে তারা নাগরিকদের এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অংশ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে যে কেউ আঘাত, গ্রেপ্তার, নির্বাসন বা মৃত্যুর মুখে পড়তে পারেন।

এই সাহায্য বহরে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে অন্তত ১১ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক রয়েছেন। তাদের সবাই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বেআইনিভাবে আটকে রয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন নামক দাতব্য সংস্থার জোমি ফ্র্যাঙ্ককম নামের এক অস্ট্রেলীয় সাহায্য কর্মীসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছিলেন।

যে কোনো মুহূর্তে হামলা বা বন্দি হওয়ার নিশ্চিত ঝুঁকি জেনেও এই গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা বহরে চড়ে ৫০০ জন অধিকারকর্মী গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। এই বিপজ্জনক যাত্রার বাস্তব অভিজ্ঞতা কেমন ছিল—তা এতদিন কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুকরা টুকরা খাড়া (ভার্টিকাল) ভিডিওর মাধ্যমেই বিশ্ববাসী দেখতে পেয়েছে। তবে এর ভেতরে রয়েছে ড্রোন হামলার আতঙ্ক, জীবন বাঁচানোর নানা মহড়া, শেষবারের মতো স্বজনদের কাছে করা ফোন কলের আবেগ এবং অবরুদ্ধ গাজাবাসীর এক বুক আশা।