logo

খামেনি নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা ইরানের

খামেনি নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণা করেছে দেশটি।

রোববার (১ মার্চ) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস আগেই খামেনির মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। তবে, কীভাবে বা কোথায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্যই ন্যায়বিচার নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বহু দেশের মানুষের জন্যও।

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার কারণে খামেনি পালাতে পারেননি। তিনি কিংবা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।

এর আগে, স্থানীয় সময় শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ছয়টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। হামলার ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ ২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। 

হামলার জবাবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরানও। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালায় তেহরান। এতে বেশ কয়েকজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়। এরপরই ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।

১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।