হাঁড়িতে টান পড়ল নেপালিদের, রান্নায় গ্যাস পাবেন পরিমিত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নেপালিদের ভাতের হাড়িতে। রান্না করতে এখন থেকে আর চাইলেই ইচ্ছে মতো গ্যাস নেওয়া যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সম্ভবত নেপালই রান্নার গ্যাস সরবরাহ সীমিত করল। ফলে এখন থেকে অনির্দিষ্টকাল রান্নার গ্যাসের রেশনিং শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল। দেশটি তার জীবাশ্ম জ্বালানির শতভাগই আমদানি করে। তবু তুলনামূলকভাবে দেশটি পরিস্থিতি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয়। কারণ ভারত অয়েল কর্পোরেশন তাদের আশ্বস্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
এতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ সীমিত হয়েছে। বিশেষ করে তেল উৎপাদন করা দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, শোধনাগারগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায়। এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তাই আগাম সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে এশিয়ার দেশ নেপাল।
দেশটি ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় রান্নার গ্যাসের রেশনিং শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্যাস নিতে নেপালের বিভিন্ন রিফিলিং প্ল্যান্টের বাইরে খালি সিলিন্ডার হাতে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। নেপাল রান্নার গ্যাসসহ জ্বালানি সরবরাহের জন্য মূলত প্রতিবেশী দেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপালে প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার সিলিন্ডার রান্নার গ্যাসের প্রয়োজন হয়, যার প্রতিটিতে ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি থাকে। এখন পর্যন্ত সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। আগাম সংকট মোকাবিলায় শুক্রবার থেকে রান্নার গ্যাসের রেশনিং শুরু করা হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত নেপাল অয়েল কর্পোরেশনের (এনওসি) নির্বাহী পরিচালক চন্ডিকা প্রসাদ ভট্ট জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে গ্রাহকদের খালি সিলিন্ডারে আগের মতো পূর্ণ গ্যাস দেওয়া হবে না। পরিবর্তে প্রতিটি সিলিন্ডারের মাত্র অর্ধেক গ্যাস ভরা হবে, যাতে দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) মজুত আরও বেশি দিন ব্যবহার করা যায়।
তিনি বলেন, নেপালে এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও অনেক গ্রাহক আতঙ্কে গ্যাস সংগ্রহ করতে ভিড় করছেন। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী রান্নার গ্যাসসহ জ্বালানি তেলের নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ভারত অয়েল কর্পোরেশন আশ্বস্ত করায় গ্রাহকদের আপাতত আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
যদিও ভারত সরকার সম্প্রতি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়েছে। তবে নেপালের জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের পরপরই দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সরকারি আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও কাঠমান্ডুর অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যেই এলপিজি সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে সমস্যার মুখে পড়ছেন। তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষের বসবাস থাকা কাঠমান্ডু উপত্যকায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ অনিয়মিত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে পরিস্থিতি যতটা গুরুতর বলে মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয় বলে জানিয়েছে এনওসি। রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির উপ-পরিচালক মনোজ কুমার ঠাকুর বলেন, তারা নিয়মিতভাবে ভারত অয়েল কর্পোরেপশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সেখান থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত থাকবে।