logo

ইরানকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল ব্রিটেন

ইরানকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল ব্রিটেন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। 

রোববার (১ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ নিচ্ছে না।

কেয়ার স্টারমার বলেন, ইরান যাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে না পারে এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে—সেই লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এটি দীর্ঘদিনের মিত্রদের সম্মিলিত আত্মরক্ষার অংশ।

এর আগে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এতে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। ইরানি কর্তৃপক্ষ খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে এবং উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠনের কথা জানিয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ নিচ্ছে না। আমরা ইরানের ওপর প্রাথমিক হামলায় জড়িত ছিলাম না এবং এখন কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেব না। তবে ইরান ‘স্কর্চড আর্থ’ কৌশল অনুসরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ নাগরিক ও মিত্রদের সুরক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

স্টারমারের ভাষ্য, চলমান উত্তেজনা যাতে আরও বিস্তার না পায় এবং তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত যৌথ যুক্তরাজ্য–যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ঘাঁটি ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ ব্যবহার করতে পারে। ঘাঁটিটি থেকে ইরানের দূরত্ব প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কিলোমিটার, যা মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েনের কৌশলগত সুবিধা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ–১৩৬’ ড্রোনের পাল্লা ওই ঘাঁটি পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। দিয়েগো গার্সিয়াতে প্রায় ৪ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন, যাদের অধিকাংশই মার্কিন সামরিক সদস্য ও ঠিকাদার।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট আই