ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো আটকাতে আবারও ব্যর্থ মার্কিন সিনেট

ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার আরও একটি প্রচেষ্টা মার্কিন সিনেটে ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধের দুটি প্রস্তাব সিনেট ভোটে বাতিল হয়ে যায়। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিনেটে তোলা দুটি প্রস্তাবের একটি ছিল ১৫ কোটি ডলারের বোমা এবং অন্যটি ছিল ৩০ কোটি ডলার মূল্যের সামরিক বুলডোজার বিক্রির বিপক্ষে। বোমা বিক্রির প্রস্তাবটি ৩৬-৬৩ ভোটে বাতিল হয় এবং বুলডোজার বিক্রির প্রস্তাবটি ৪০-৫৯ ভোটে বাতিল হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি কমানোর এটি ছিল চতুর্থ প্রচেষ্টা। তবে এবার বিরোধিতাকারীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে, যাকে অনেকেই ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখছেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে একই ধরনের প্রস্তাবে ২৭ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য সমর্থন দিয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৪০ এ দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরে ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ক্যাটারপিলার ডি-৯ বুলডোজার বিক্রি বন্ধের প্রস্তাবটি এবারই প্রথম সিনেটে তোলা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনে একটি নতুন জনমত তৈরি হচ্ছে, যেখানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রিতে আন্তর্জাতিক আইন মানার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ডিমান্ড প্রগ্রেসের উপদেষ্টা কাভান খাররাজিয়ান বলেন, ‘কংগ্রেস অবশেষে সাধারণ আমেরিকানদের মনের ভাষা বুঝতে শুরু করেছে, যারা ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠাতে নিজেদের করের অর্থ খরচ করতে চান না।’
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ অনেক প্রগতিশীল নেতা এই অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তবে চাক শুমার ও জন ফেটারম্যানসহ সাতজন ডেমোক্র্যাট সদস্য অস্ত্র বিক্রির পক্ষ নিয়েছেন।
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘নেতানিয়াহুর জন্য গাজা ও ইরানই যথেষ্ট ছিল না। তিনি এখন লেবাননে আগ্রাসন চালাচ্ছেন এবং দেশটির ১৪ শতাংশ এলাকা দখল করে নিয়েছেন।’
অন্যদিকে, ২০২৬ এর মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই ভোটকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। রুবেন গ্যালেগো, মার্ক কেলি ও কোরি বুকারের মতো সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরাও এবার অস্ত্র বিক্রির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, যা মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েল নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।