logo

বিয়ের দাবিতে পানির ট্যাংকে উঠে আত্মহত্যার হুমকি যুবকের 

বিয়ের দাবিতে পানির ট্যাংকে উঠে আত্মহত্যার হুমকি যুবকের 

এ যেন বলিউড সিনেমার দৃশ্য। পর্দায় ছিল রামগড়, আর বাস্তবে পুরুলিয়া। সিনেমার দৃশ্যে ছিলেন ধর্মেন্দ্র ওরফে ‘বীরু’, আর বাস্তবে বছর বাইশের যুবক আব্বাস আনসারী। ব্লকবাস্টার ‘শোলে’ সিনেমার সেই আইকনিক দৃশ্য, যেখানে বাসন্তীকে পাওয়ার জন্য বীরু জলের ট্যাংকে উঠে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন, ঠিক সেই ঘটনারই যেন বাস্তবে দেখল পুরুলিয়াবাসী। তবে পার্থক্য শুধু একটাই, সিনেমাতে বীরুকে আটকানোর জন্য গব্বর বা মৌসিজি ছিল, আর এখানে আব্বাসকে নামাতে ঘাম ছুটল পুলিশ ও দমকল কর্মীদের।

ঘটনাটি রোববারের (১২ এপ্রিল), এমনিতে ছিল সাপ্তাহিক ছুটির আমেজ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া শহরের দুলমি এলাকায় যখন সকাল শুরু হচ্ছিল, তখনই এলাকার বাসিন্দাদের চোখে পড়ে এই সিনেমাটিক দৃশ্য। 

এলাকার বিশাল উঁচু জলের ট্যাংকের মাথায় দাঁড়িয়ে এক যুবক চিৎকার করছেন। তার দাবি, ‘বিয়ে করতে চাই!’ মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পুরুলিয়া থানার রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আনসারীর এই ‘বীরু-গিরি’ দেখতে নিচে ভিড় জমান স্থানীয়রা। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে আব্বাসের মাথায় বিয়ের আগ্রহ প্রবলভাবে চেপে বসেছে। তবে পরিবারের কাছে বারবার দাবি জানিয়েও কোনো সুফল আসছিল না। যদিও পরিবার বলছে, তারা বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন। কিন্তু আব্বাস কাউকে কিছু না জানিয়ে দুলমি এলাকায় জলের ট্যাংকে উঠে পড়েন। মূলত ঘটনার শুরু এখান থেকেই।

চৈত্রের গরমে যখন প্রকৃতি পুড়ছে, তখন পুরুলিয়ার এই যুবকের কাণ্ড দেখে হতবাক পুলিশও। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। ছুটে আসে দমকলকর্মীরাও। নিচে দাঁড়িয়ে যুবকের বাবা হাবিব আনসারী ছেলেকে অনেক অনুনয়বিনয় করেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। হাবিব জানান, ‘ছেলে বিয়ের দাবি করছিল। আমরাও বলেছিলাম বিয়ে দেব। কিন্তু আজ সকালে দেখি ও এই কাণ্ড করে বসে আছে।’ 

দীর্ঘ সময় ধরে চলে এ টালবাহানা। একদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্যাংকের ওপর যুবকের দাঁড়িয়ে থাকা, অন্যদিকে নিচে উৎসুক জনতার ভিড়, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে প্রশাসনকে। শেষ পর্যন্ত অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ‘বীরু’ আব্বাসকে নিচে নামানো হয়।