logo
Advertisement

ভারতে ৪৫ দিনে ২৩ মসজিদ-মাদ্রাসা উচ্ছেদ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভারতে ৪৫ দিনে ২৩ মসজিদ-মাদ্রাসা উচ্ছেদ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে গত ৪৫ দিনে অন্তত ২৩টি মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিকভাবে অপসারণের ঘটনা ঘটেছে।

Advertisement

শনিবার (২০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মুসলিম মিরর’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্ছেদ হওয়া ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর সিংহভাগই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে অবস্থিত।

স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য দাবি করেছে, সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, অনুমোদনহীন স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই অভিযানগুলো চালানো হয়েছে। তবে প্রশাসনের এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। তাদের অভিযোগ, বহু বছরের পুরোনো এবং আইনগতভাবে বৈধ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উচ্ছেদ হওয়া বেশ কয়েকটি মসজিদ ও দরগাহ দীর্ঘকাল ধরে ওই অঞ্চলের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র ছিল। কোনো আগাম নোটিশ বা প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ এমন ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, উন্নয়ন বা আইন প্রয়োগের নামে ধর্মীয় ও আবেগীয় সংবেদনশীলতাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

বিপরীতে সরকারি কর্মকর্তারা বরাবরের মতোই দাবি করছেন, এই অভিযান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়নি। নগর উন্নয়ন ও অবৈধ দখলমুক্ত করার নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই উচ্ছেদকারী দল কাজ করেছে।

তবে মানবাধিকার সংস্থা এবং সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষকরা এই যুক্তি পুরোপুরি মেনে নিতে পারছেন না। গত দেড় মাসে যেভাবে একের পর এক ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙা হয়েছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। একই সঙ্গে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি বিষয়টির স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ভারতের জনপরিসরে এখন তীব্র বিতর্ক চলছে। এক পক্ষ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উন্নয়ন ও আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে স্বাগত জানালেও, অন্য পক্ষ একে সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।