logo

যে কারণে ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান

যে কারণে ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইকুয়েডর ও মার্কিন বাহিনী। মূলত, ইকুয়েডরে অবস্থিত মাদক পাচার নেটওয়ার্ক ভাঙতে এ অভিযান চলছে। এটাই ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, ইকুয়েডর ও ইউরোপীয় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইউরোপোলের সঙ্গে কাজ করছে। এ যৌথ অভিযানে লস লোবোস গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহৎ আকারের মাদক পাচার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিবিসির খবর অনুসারে, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া বলেছেন যে মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তারা। এ লড়াইয়ে অংশ নেওয়া ‘আঞ্চলিক মিত্রদের’ মধ্যে আমেরিকাও রয়েছে।

নোবোয়া আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ কোকেন এখন ইকুয়েডরের বন্দর দিয়ে সরবরাহ করা হয়।

বিশ্বের দুটি বৃহত্তম কোকেন উৎপাদনকারী দেশ কলম্বিয়া এবং পেরুর মধ্যে অবস্থিত ইকুয়েডর। এ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক পাচারকারী গ্যাংগুলোর জন্য এ দেশে থেকে তাদের কর্মকাণ্ড চালানো বেশ লাভজনক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম মাদক পাচারের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। ইকুয়েডর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বে বেশির ভাগ কোকেন রপ্তানি করা হয়। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারে সংশ্লিষ্ট ইকুয়েডরের লস লোবোস গ্যাংকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। 

কুইটোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ১৬ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী।

ইউরোপোল জানিয়েছে, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং ইকুয়েডরের ১০০ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে শুরু হওয়া তদন্তের সময় পুলিশ নেদারল্যান্ডসে ৩.৭ টন, বেলজিয়ামে তিন টনেরও বেশি এবং ইকুয়েডরে অর্ধ টনেরও বেশি কোকেন জব্দ করেছে। ইউরোপে ফল রপ্তানির সময় এসব মাদক ফলের পাত্রে লুকানো ছিল। এ কারণে ইকুয়েডর, ইউরোপীয় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মাদক পাচার নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এ সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।