সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি ইরান, দাবি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইসলামাবাদ সফর করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানিদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি খুবই কাছাকাছি ও নিকটে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ইরান সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
নেভাডা ও অ্যারিজোনা সফরে যাওয়ার পথে ট্রাম্প বলেন, দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হবে আগামী ২১ এপ্রিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়তে পারে। তবে সেটা করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসলামাবাদে কোনো চুক্তি হলে আমি যেতে পারি। ওরা আমাকে চায়। ইরান প্রায় সবকিছুতে রাজি।
কোনো প্রমাণ না দিয়েই তিনি বলেন, গত বছর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে ইরান। যদিও ইরানি নেতারা কখনো এতে রাজি হওয়ার ইঙ্গিতও দেয়নি।
গত শনিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও পাকিস্তান যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে, দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। তবে এও জানিয়েছে, এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবির বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, কারা আসবে, প্রতিনিধিদল কত বড় হবে, কারা থাকবে এবং কারা চলে যাবে, তা পক্ষগুলোই সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আমাদের জন্য আলোচনা গোপন রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো আমাদের কাছে আলোচনার বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ অর্পণ করেছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটনে বৈঠকের পর ইসরায়েল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল লেবাননের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইরান-সমর্থিত লেবানিজ মিলিশিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইরান ও পাকিস্তান বলেছে, লেবানন প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির অংশ ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা মানতে নারাজ।