‘ইরান যুদ্ধ করতে চায় না, বরং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায়’

ইরান যুদ্ধ করতে চায় না, বরং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায় বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বেচ্ছাচারিতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধ করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আলজাজিরা ও ইরনার প্রতিবেদন অনুসারে এ খবর পাওয়া গেছে।
মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান যুদ্ধ নয়, বরং সংলাপের পক্ষপাতী। তবে দেশটির ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার বা দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে কোনো মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক রীতি-নীতি অনুসারে বেসামরিক নাগরিক, বুদ্ধিজীবী ও শিশুদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং স্কুল-হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার কী যুক্তি থাকতে পারে?’
ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল, বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এ বিষয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ৯৪২ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্নির্মাণ করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, এই সামরিক অভিযানে কেবল স্কুল নয়, বরং বিপুলসংখ্যক বেসামরিক স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৬৪০টি বেসামরিক স্থাপনা। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে এক লাখ ঘরবাড়ি, ২০ হাজার ৫০০ দোকান এবং ৩৩৯টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।
ইরানের সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব বেসামরিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণে তিন থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যেসব নাগরিকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা পুনরায় তা নির্মাণের জন্য বিশেষ ‘গৃহঋণ’ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত ছিল।