ক্ষোভে ফুঁসছেন হ্যারি পটার রচয়িতা জে কে রাউলিং

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হ্যারি পটার খ্যাত বিশ্বখ্যাত লেখিকা জে কে রাউলিং। যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের সহায়তার জন্য ৬০ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ লেখিকার প্রতিষ্ঠিত একটি সেবাকেন্দ্রকে ‘অধিকার-বিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দেয় সংস্থাটি। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘চ্যারিটি কমিশন’।
সম্প্রতি অ্যামনেস্টির যুক্তরাজ্য শাখা ‘এ গ্রোয়িং থ্রেট: দ্য অ্যান্টি-রাইটস মুভমেন্ট ইন দ্য ইউকে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে রাউলিংয়ের প্রতিষ্ঠিত ‘বেইরাস প্লেস’ নামক সেবাকেন্দ্রটিকে অধিকার-বিরোধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ রাউলিং লেখেন, ‘সংবাদমাধ্যমের যেসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয় আমি কোনো বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছি, সেগুলো দেখে সাধারণত আমি হেসেই উড়িয়ে দিই। কিন্তু এবার অ্যামনেস্টির এই আক্রমণ আমাকে এমন এক ক্ষোভে পুড়িয়েছে যা প্রতি ঘণ্টার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে।’
চতুর্মুখী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের ওয়েবসাইট থেকে বিতর্কিত প্রতিবেদনটি সরিয়ে নিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে প্রতিবেদনটি ভুলবশত আপলোড করা হয়েছিল। এতে ব্যবহৃত ভাষা অ্যামনেস্টি ইউকে-এর প্রকৃত অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায় না।
এদিকে ‘বেইরাস প্লেস’-এর প্রধান নির্বাহী লেসলি জনস্টন অ্যামনেস্টির এই পদক্ষেপকে ‘নিন্দনীয় এবং গভীর আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্যাতিত নারীদের সহায়তায় যারা দিনরাত কাজ করছেন, তাদের এভাবে অধিকার-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
২০২২ সালে হ্যারি পটার রচয়িতা জে কে রাউলিং এই সেবাকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন। কেন্দ্রটি মূলত যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি ও মানসিক সহায়তা দিয়ে থাকে। লেখিকা রাউলিং নিজে অতীতে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নারীদের জন্য নির্দিষ্ট একক লিঙ্গভিত্তিক স্থানের পক্ষে জোরালো কথা বলে আসছেন। এই বিষয়টি নিয়ে ট্রান্স-অধিকার কর্মীদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। সমালোচকদের একাংশ তার বিরুদ্ধে ট্রান্সফোবিয়ার অভিযোগ আনলেও রাউলিংয়ের দাবি, তিনি কেবল নারীদের অধিকার রক্ষার্থেই সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন।
যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু না হলেও আইনগতভাবে তাদের কোনো ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ফ্রান্স২৪
