logo

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দামে

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দামে

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। সোমবার (৩০ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমে প্রতি আউন্স প্রায় চার হাজার ৪৬৭ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমে চার হজার ৪৯৬ ডলারে নেমেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসে স্বর্ণের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে, যা ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার পর এক মাসে সর্বোচ্চ পতনের রেকর্ড। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হিসাবে চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে, যা ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর একক মাসে সর্বোচ্চ দরপতন। এর প্রধান কারণ শক্তিশালী মার্কিন ডলার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডলারের মান দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে।

এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, সুদের হার কমার প্রত্যাশা বদলে যাওয়ায় ডলারের মান বেড়েছে, যা স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন এ বছর সুদের হার কমার সম্ভাবনা খুব কম দেখছেন, কারণ জ্বালানির উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে দুটি রেট কাটের সম্ভাবনা ছিল, এখন তা প্রায় শূন্য।

সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সম্পদ—যা কোনো সুদ প্রদান করে না—তার আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। গত সপ্তাহে হুথিদের ইসরায়েলে হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা মার্চ মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের জ্বালানি তেল ‘দখল করতে চান’ এবং দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন।

অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম এক দশমিক তিন শতাংশ কমে ৬৮ দশমিক ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্লাটিনাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে এক হগাজার ৮৬৮ ডলার এবং প্যালাডিয়াম এক শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩৯১ ডলারে পৌঁছেছে।