ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা, প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে সম্ভাব্য ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’—অর্থাৎ পারমাণবিক হামলার শঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মীরা।
বুধবার (১৮ মার্চ) মার্কিন সংবাদ সংস্থা পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডব্লিউএইচও-এর পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হানা বালখি এই প্রস্তুতির কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে হানা বালখি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীরা সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনার বিষয়ে ‘সতর্ক অবস্থায়’ রয়েছেন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হচ্ছে একটি পারমাণবিক ঘটনা, আর সেটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যতই প্রস্তুতি নেই না কেন, যে ক্ষতি হবে তা প্রতিরোধ করার কোনো উপায় নেই। এটি পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করবে—এবং যদি এমন কিছু ঘটে, তবে তার প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে এবং এর পরিণতি কয়েক দশক ধরে থাকবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি এবং সত্যিই আশা করছি এমন কিছু ঘটবে না।
সংবাদ সংস্থা পলিটিকো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তাদের কর্মীদের পারমাণবিক ঘটনার সময় কীভাবে সাড়া দিতে হবে সে বিষয়ে নতুন করে প্রস্তুত করছে এবং তেজস্ক্রিয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।
বালখি বলেন, ‘আমি মনে করি, যারা অতীতের ঘটনাগুলোর ইতিহাস পড়েছেন—সেগুলো ইচ্ছাকৃত হোক বা দুর্ঘটনাজনিত—তারা খুব ভালোভাবেই জানেন আমরা কী নিয়ে কথা বলছি।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা—যা হামলা শুরুর সময় ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি জানান, নৈতিকভাবে তিনি এই ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেন না। তার মতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না’—এ কথা তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করেন।
বুধবার সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে দেওয়া তার উদ্বোধনী বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, গত গ্রীষ্মে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির পারমাণবিক সমৃদ্ধি কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ হয়ে গেছে। এরপর থেকে ইরানের সমৃদ্ধি সক্ষমতা পুনঃস্থাপনের কোনো চেষ্টা করা হয়নি। বোমা মারা ভূগর্ভস্থ সুবিধাগুলোর প্রবেশপথ সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেভিড স্যাকস সোমবার শঙ্কা সৃষ্টি করেন যখন তিনি ইঙ্গিত দেন যে ইসরায়েল যদি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করে, তবে যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইসরায়েল কখনও তা করবে না।’
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট