মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ড্রোন ঠেকাতে ৫ দেশে বসল ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর

ইউক্রেন থেকে আসা ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশে মোতায়েন করা হয়েছে। ইরানি ড্রোনের হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষায় ইন্টারসেপ্টরগুলো ব্যবহৃত হবে।
শুক্রবার (২০ মারর্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ২০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে।
এক এক্স বার্তায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভ লিখেছেন, এই ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থাগুলো মূল অবকাঠামো সুরক্ষায় কাজ করছে। এসব সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়ানোর কাজও চলছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইরানের শাহেদ ড্রোন ২০২২ সালে রাশিয়াকেও দেওয়া হয়েছিল। একই ধরনের ড্রোন এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও ব্যবহার হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইউক্রেন এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে প্রায় ৯০ শতাংশ সফলতা পাচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা এখন তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের সঙ্গে ভাগাভাগি করছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো আগে মূলত বেশি উচ্চতায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। ফলে নিচু উচ্চতায় উড়তে সক্ষম ড্রোন মোকাবিলায় তারা দুর্বল ছিল।
ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থায় খরচ অনেক কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা মিসাইল একবার ছুঁড়তে প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যেখানে একটি ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের খরচ প্রায় ৩ হাজার ডলার। আর একটি শাহেদ ড্রোনের আনুমানিক দাম প্রায় ৫০ হাজার ডলার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ সামরিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের প্রতিরোধ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়ে। এর জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান।
শুক্রবার এই যুদ্ধের ২১তম দিনে গড়িয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলি ও মার্কিনি হামলায় ইরানে মোট মৃতের সংখ্যা ১ হাজর ৪৪৪ জন ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০৪ জন শিশু। এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।