প্রথম দিনের হামলায় নিহত হন মোজতবা খামেনির স্ত্রীও

দশম দিনে গড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই বিধ্বংসী সংঘাতের শুরুতেই সপরিবারে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, তার উত্তরসূরি হিসেবে ছেলে মোজতাবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
তেহরান সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধের প্রথম দিকে চালানো ওই ভয়াবহ বিমান হামলায় শুধু আলী খামেনিই নন, প্রাণ হারিয়েছেন মোজতাবার স্ত্রীও। তিনি ইরানের প্রভাবশালী কট্টরপন্থি নেতা এবং দেশটির সাবেক সংসদ স্পিকার গোলাম আলী হাদ্দাদ-আদেলের কন্যা ছিলেন।
সোমবার (৯ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই যুদ্ধের শুরুতে হামলায় নিজের পরিবারের বহু সদস্যকে হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, মা মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ, স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, এক ছেলে, বোন ও ভগ্নিপতিসহ অন্যান্য নিকটাত্মীয়।
মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে ইরান একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের শক্তিশালী ধর্মীয় সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ নামে পরিচিত দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে নির্বাচিত করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি বিরল প্রজন্মগত পরিবর্তন। বর্তমানে সবার নজর নতুন নেতার দিকে থাকলেও, জনস্বার্থ এখন তার প্রয়াত স্ত্রীর দিকেও ঝুঁকেছে।
জোহরা হাদ্দাদ-আদেল কে ছিলেন?
মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা খামেনি ছিলেন ইরানের বিশিষ্ট রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেলের কন্যা। তার বাবা ইরানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং দেশটির সাবেক স্পিকার। মূলত, তাদের এই বিবাহ ইরানের দুটি শক্তিশালী রক্ষণশীল পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হতো।
১৯৯৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। এই বিয়ের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় এবং তার বাবার নেতৃত্বাধীন প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে একটি কৌশলগত জোট নিশ্চিত করা।
দৃঢ় রাজনৈতিক পটভূমি থাকা সত্ত্বেও জোহরা রাজনীতি এবং সংবাদমাধ্যমের আড়ালে এক নিভৃত জীবনযাপন করতেন। তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়। ফ্র্যান্স ২৪ ও রয়টার্সের মতো কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোহরা হাদ্দাদ-আদেল প্রথমদিনের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন যাতে তার শ্বশুর ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তবে এর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
জোহরা ও মোজতবার তিন সন্তান রয়েছে। তবে ইরানের রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির কঠোর গোপনীয়তার কারণে তাদের পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের রাজনীতিবিদদের পরিবারগুলো খুব কমই তাদের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য প্রকাশ করে। জনসম্মুখে পরিচিতি কম থাকলেও, জোহরা দেশটির রাজনৈতিক মহলে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।