মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলে খালাসের অপেক্ষায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবরের পর প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কেপলার।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের অপরিশোধিত তেল বাজার ডাটা বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো জানিয়েছেন, এই তেলবাহী জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্য উপসাগর থেকে শুরু করে চীনের নিকটবর্তী জলসীমা পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
শনিবার (২১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস গত ১৯ মার্চের অনুমান অনুযায়ী, সমুদ্রে ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির ১৪ দিনেরও কম সময়ের সমান।
এশিয়ার দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৬০ শতাংশই সংগ্রহ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে দেশগুলো। সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক শোধনাগার তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে জ্বালানি তেলের রপ্তানিও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে বেশির ভাগ দেশ ইরানি তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। তবে এই সুযোগটি লুফে নিয়েছে চীন। কেপলারের তথ্য বলছে, গত বছর চীন প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিশ্ববাজারের চেয়ে অনেক কম দামে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় চীন বড় ধরনের ছাড়ের সুবিধা ভোগ করছে।
ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে ৩০ দিনের শিথিলতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এই সাময়িক অনুমোদন কেবল সেই তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো ইতোমধ্যে পরিবহন প্রক্রিয়ায় ছিল—নতুন কোনো অর্ডারের ক্ষেত্রে নয়।
এদিকে ইরান দাবি করছে, তারা এমন জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে দামের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এর আগে ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সাগরে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে সাগরে থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে আসার সুযোগ পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।