যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ করলে উপসাগরীয় বন্দরগুলোতে হামলা চালাবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি উপসাগরীয় জলসীমায় নৌ অবরোধ করে, তাহলে এই অঞ্চলের বন্দরগুলো পাল্টা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার হুমকি দিয়েছে ইরান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফগারি এই হুমকি দিয়েছেন। এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নৌ অবরোধ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিন্দা জানিয়ে এই পাল্টা হুমকি দিল তেহরান। খাতাম আল-আম্বিয়ার এই মুখপাত্র বলেন, ইরানের ওপর ট্রাম্পের নৌ অবরোধের পরিকল্পনা অবৈধ পদক্ষেপ ও সামুদ্রিক জলদস্যুতার শামিল।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে ইব্রাহিম জোলফগারি বলেন, যদি ইরানের বন্দরগুলো হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে পারস্য উপসাগর বা ওমান উপসাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
এর আগে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে আসা যে কোনো সামরিক জাহাজকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য করা হবে ঘোষণা দেয়।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সময় সকাল ১০টা থেকে এই অবরোধ শুরু হবে, যা ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা। অর্থাৎ এই সামরিক পদক্ষেপের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।
গত শনিবার ‘ইলামাবাদ সংলাপে’ দীর্ঘ ৪৭ বছর পর মুখোমুখি বৈঠকে অংশ নেয় তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদল। ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি তারা। পরদিন সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা দেন, কোনো চুক্তি ছাড়ার তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ছেড়ে যাচ্ছেন।
এই কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। তারা বলেছে, ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্তি’ দাবির কারণে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সমঝোতার খুবই কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন তারা।