মাস্ক-কুকসহ ১৭ শীর্ষ সিইও নিয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ সফরে চীন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৩ মে) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সফরে তার সঙ্গী হচ্ছেন টেসলার ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের টিম কুকসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ জন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।
সোমবার (১২ মে) নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, মাস্ক এবং কুকের সঙ্গে আরও ১৫ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) থাকবেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
এই তালিকায় বোয়িং, জিই অ্যারোস্পেস, সিটি, গোল্ডম্যান স্যাকস, মাস্টারকার্ড এবং ভিসার প্রধানরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সিসকো, মেটা, মাইক্রন এবং কোয়ালকমের শীর্ষ নির্বাহীরা এই সফরে থাকছেন বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইলন মাস্ক দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ২৮ কোটি ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়ে ট্রাম্পকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছিলেন। গত বছরের জুলাইয়ে এই দুইজনের মধ্যে প্রকাশ্য মনোমালিন্য হলেও পরে তাদের মধ্যে পুনরায় সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং মাস্ককে আবার হোয়াইট হাউসে দেখা যায়।
চীন-মার্কিন আলোচনার এজেন্ডা
বেইজিং জানিয়েছে, তারা আরও স্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। নির্ধারিত সময়ে ট্রাম্প চীন সফর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বেইজিং। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফর করছেন। ট্রাম্পের এই সফর বুধবার (১৩ মে) থেকে শুক্রবার (১৫ মে) পর্যন্ত চলবে।
ওয়াশিংটন ও বেইজিং বাণিজ্য শুল্ক থেকে শুরু করে ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনার এজেন্ডায় তুলে আনবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতাও দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের আগে এই কৌশলগত জলপথটি বিশ্বব্যাপী তেলের বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ, ২০ শতাংশ এলএনজি চালান এবং ৩০ শতাংশ সার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। চীন আঞ্চলিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলোকে ইরানি তেল রপ্তানি লক্ষ্য করে দেওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না মানার নির্দেশ দিয়েছে।
বেইজিং সফরে গিয়ে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ আলোচনার টেবিলে থাকবে দেশ দুটির অসংখ্য বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত অক্টোবরে ট্রাম্প ও শি বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে এক বছরের বেশি সময়ের জন্য বিরতিতে সম্মত হন। ওই সময় চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল।
আমদানিতে লাগাম টানতে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কারখানা তৈরির জন্য চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তবে অনেক শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানির সরবরাহ ব্যবস্থা চীনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা ওয়াশিংটন-বেইজিংকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উত্তেজনার মুখে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চীনা কোম্পানিগুলোর উন্নত এআই চিপ পাওয়ার পথ বন্ধ করার চেষ্টাও করেছে।
সাফল্যের সম্ভাবনা
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক এবং সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক জোনাথন এ. জিন বলেছেন, এই বৈঠক থেকে বড় কোনো নাটকীয় সাফল্যের সম্ভাবনা কম। পরিবর্তে সাময়িক বাণিজ্য ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার দিকেই বেশি নজর দেওয়া হবে এই বৈঠকে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখে মার্কিন প্রতিনিধিদল আমেরিকান সয়াবিন এবং বোয়িং যাত্রীবাহী বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি আদায়ের চেষ্টা করবে।
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের রিসার্চ ফেলো ড্যানিয়েল ফু বলেছেন, চীনের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ এবং অভ্যন্তরীণ কয়লার ওপর নির্ভরশীলতা সমুদ্রপথের অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তারা অস্থিরতার সময় দ্রুত বিকল্প সরবরাহ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সক্ষম।