logo

ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্বোধন করে আম্বানির কাছে ক্ষমা চাইলেন মাস্ক

এনডিটিভি
এনডিটিভি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্বোধন করে আম্বানির কাছে ক্ষমা চাইলেন মাস্ক
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ও ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানি। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমতি পাওয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। আম্বানিকে ভারতের ‘প্রকৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে তার কাছে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ক্ষমাও চেয়েছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আম্বানিকে ভারতের ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করলেন তিনি।

এক্সে মাস্ক লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, ভারতের প্রকৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তি যে আপনি, তা বুঝতে না পারার জন্য বিনীতভাবে ক্ষমা চাইছি।’

তিনি লেখেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, আপনি ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখে শোষণ চালিয়ে যেতে চাইবেন। তবু স্টারলিংককে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি কি বিবেচনা করবেন?’

শেষে তিনি লেখেন, ‘ভারতের অনেক এলাকায়, অন্যান্য দেশের মতোই ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এর ফলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ছোট ব্যবসাগুলোও বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে না। স্টারলিংক এসব মানুষের জীবন আরও উন্নত করতে পারে। ধন্যবাদ।’

স্টারলিংক স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবা দেওয়ার জন্য টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স পাওয়া তিন প্রতিষ্ঠানের একটি এটি। অন্য দুটি হলো ভারতী গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড।

তবে সেবা চালু করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। এরপর তাদের ব্যবহারের জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা যাচাই চলছে।

গত বুধবার থেকে এই বিতর্কের সূত্রপাত। এক্সে এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, কিছু ‘প্রভাবশালী গোষ্ঠী’ নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখতে ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে।

তিনি লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আমাদের বাধা দিচ্ছে। কারা তারা, তা আপনারা অনুমান করতে পারেন। এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ।’

বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মাস্কের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে। মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ সেবার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার ন্যায্য ও বৈষম্যহীন কাঠামো অনুসরণ করছে।

বৃহস্পতিবারই আবার এক্সে পোস্ট দিয়ে মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, ভারতের সব আইন ও শর্ত মেনে চলার পরও কেন স্টারলিংক এখনো লাইসেন্স পাচ্ছে না।

তার দাবি, বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে স্টারলিংক লাইসেন্স পেয়েছে এবং ভারতে অনুমোদন পেতে পাঁচ বছর ধরে দেশটির সরকারের সব আইন ও শর্ত মেনে চলার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুক্রবারের দেওয়া পোস্টে মাস্ক আরও দাবি করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অন্য যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়লে মানুষের জীবন রক্ষায় স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতে প্রতিষ্ঠানটিকে সেবা দেওয়ার সুযোগ দিলে দেশটির নারী, পুরুষ ও শিশুদের জীবন রক্ষায়ও তা সহায়ক হবে।