ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের ডাক মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার পদ থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। এমনকি তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের ডাকও দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানো তার প্রশাসনের বিরুদ্ধেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। ২৫তম সংশোধনীতে প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে আলজাজিরা জানায়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানানো সর্বশেষ ব্যক্তি হলেন অ্যারিজোনার কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি।
নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প একটি বিধ্বংসী ও অবৈধ সংঘাতকে আরও তীব্র করছেন। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তিনি ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। শুধু গত ৪৮ ঘণ্টাতেই তার বাগাড়ম্বর সব সীমা অতিক্রম করেছে।
এর আগে, মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহাম ওমরও ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটা ঠিক নয়। ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করুন। তাকে অভিশংসন করুন। অপসারণ করুন। এই ভারসাম্যহীন উন্মাদকে অবশ্যই পদ থেকে সরাতে হবে।
নিউ মেক্সিকোর কংগ্রেসওম্যান মেলানি স্ট্যানসবারি এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, এখন ২৫তম সংশোধনী আনার সময়। কংগ্রেস ও মন্ত্রিসভাকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইলিনয়ের প্রাক্তন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো ওয়ালশও ট্রাম্প সম্পর্কে বলেন, তিনি চিরকাল এই দেশের জন্য একটি কলঙ্ক হয়ে থাকবেন। এবং বিশ্বের জন্যও। ২৫তম সংশোধনী। এখনই।
ডেমোক্র্যাটিক সিনেট সদস্য ক্রিস মারফিও এক্সে লিখেছেন, আমি যদি ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তাহলে ইস্টারের ছুটিতে ২৫তম সংশোধনী নিয়ে সাংবিধানিক আইনজীবীদের ফোন করতাম। তিনি সম্পূর্ণ, চূড়ান্ত ভারসাম্যহীন। তিনি ইতোমধ্যেই হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। তিনি আরও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে চলেছেন।
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে হামলার পরে এই দাবি জোরালো হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কেই ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টার জবাবে সংশোধনীটি প্রয়োগের আহ্বান জানান।
এর আগে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে। অভিশংসনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পড়েছিল। তারও আগে মাত্র দুই জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হয়েছিলেন। তারা হলেন- অ্যান্ড্রু জনসন ও বিল ক্লিনটন। তবে সিনেটে তাদের কাউকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি।
মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী (১৯৬৭) হলো প্রেসিডেন্টের মৃত্যু, পদত্যাগ বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এটি ভাইস প্রেসিডেন্টকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ও মন্ত্রিসভার সমর্থনে কোনো প্রেসিডেন্টকে ‘অক্ষম’ ঘোষণা করে সরানোর সুযোগ দেয়। বিশেষ করে, শারীরিক বা মানসিক কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে এই ধারাটি কার্যকর করা যায়, যা বর্তমানে ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে আলোচনায় আসছে।