logo

মার্কিন হুমকির তোয়াক্কা করল না ইরান, ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে অনড়

মার্কিন হুমকির তোয়াক্কা করল না ইরান, ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে অনড়

ইরান ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ওমানে হওয়া আলোচনা ‘ভালো’ হয়েছে বলে দাবি দুপক্ষের। কিন্তু ইসরায়েলের আপত্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিরও লাগাম টানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে মার্কিন হুমকির তোয়াক্কা করেনি ইরান। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করল দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলী শামখানি। তিনি বলেছেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আমাদের ‘লাল রেখা’। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার প্রশ্নই ওঠে না।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক শোভাযাত্রায় তিনি এ কথা বলেন। খবর রয়টার্সের।

এর আগে, গত সপ্তাহে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকদের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক হয়েছে। দুই দেশই সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে নতুন করে আলোচনার পথ খুঁজছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছে, যা তেহরান হুমকি হিসেবে দেখছে।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চায়। কিন্তু ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে রাজি হলেও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু অন্য কোনো বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে না।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি সম্ভাব্য চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বলেছেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই আলোচনার এজেন্ডায় ছিল না। আগের দিন তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা করবে।

আরাঘচি বলেন, পরমাণু সমৃদ্ধকরণ ইরানের ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’ এবং এ কর্মসূচি ‘চলতেই থাকবে’। তিনি বলেন, ‘আমরা আশ্বাস পেলে চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত। ইরানের পারমাণবিক সংকট শুধু আলোচনার মাধ্যমেই ‍সমাধান করা সম্ভব।’

তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ‘প্রতিরক্ষার বিষয়’, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই আলোচনার বিষয় হতে পারে না।