logo

ব্যালট পেপার শেষ: প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ!

ব্যালট পেপার শেষ: প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ!
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (এনইসি) চেয়ারম্যান রো তাই-আক। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় নির্বাচনে কিছু জেলায় ব্যালট পেপারের ঘাটতি পড়ায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোটারদের তোপের মুখে পড়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (এনইসি)। যথাযথভাবে দায়িত্বে অবহেলা ও নাগরিকের অধিকার খর্ব করার দায়ে পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান রো তাই-আক ও মহাসচিব হু চুল-হুন।

শুক্রবার (৫ জুন) গিয়ংগি প্রদেশের গোয়াচিয়নে কমিশনের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন রো। দেশের শীর্ষ নির্বাচন সংস্থাটির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও পুলিশি তদন্তের মধ্যেই তিনি এই প্রস্তাব দেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় গত বুধবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত সময়ে ভোট গ্রহণ শুরু হলে সিউলের প্রায় ১৫টি জেলায় ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায়। শত শত ভোটারকে সন্ধ্যা ৬টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হতে হয়। ফলে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি তারা।

এতে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে নিজের কাঁধে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এনইসি চেয়ারম্যান ও মহাসচিব।

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে এনইসি চেয়ারম্যান রো বলেন, জনগণের ভোটাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনার কোনো অজুহাত হতে পারে না। ব্যালট ঘাটতির কারণ খুঁজে বের করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বাইরের সদস্যদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এ ছাড়া সংসদীয় তদন্তসহ জবাবদিহিমূলক সব কার্যক্রমে তিনি নিজে অংশ নেবেন। প্রয়োজনে এই ব্যর্থতার জন্য যে কোনো দায়ভার মাথা পেতে নিতেও প্রস্তুত আছেন রো।

দ্য কোরিয়া টাইমস জানিয়েছে, কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে রো-এর বিরুদ্ধে একটি নাগরিক সংগঠন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। মামলাটি তদন্তের জন্য সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন দেশের ১৪ হাজার ২৮৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৭টিতে অতিরিক্ত ব্যালট পাঠাতে হয়েছিল। এর মধ্যে ৫০টি কেন্দ্রে ব্যালট শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং ২২টি কেন্দ্রে কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রেখে পরে আবার শুরু করা হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সিউলের সংপা জেলা, যেখানে ১৫টি কেন্দ্র এই সমস্যার মুখে পড়ে।

কেন সব যোগ্য ভোটারের জন্য ব্যালট ছাপানো হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে এনইসি জানায়, সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম ৬০ শতাংশ এবং স্থানীয় নির্বাচনের জন্য ৫০ শতাংশ ব্যালট ছাপানো হয়।

কমিশনের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগাম ভোটের হার বেড়ে যাওয়ায় অনেক কেন্দ্রে অব্যবহৃত ব্যালট থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যালট সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। আগাম ভোটাররা নির্বাচনের দিন ভোট দেন না, তাই পুরো নির্বাচকমণ্ডলীর জন্য ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হয় না।