চীন-রাশিয়াকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত অস্ত্রের অর্ধেকই ব্যয় হয়ে গেছে ইরান যুদ্ধে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আধুনিক ও শক্তিশালী সমরাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব এবং কংগ্রেস কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের মাত্র ৩৮ দিনে যুক্তরাষ্ট্র তার দূরপাল্লার স্টিলথ ক্রুজ মিসাইল ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের এক বিশাল অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এমন তথ্য।
সংবাদমাধ্যম জানায়, চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ১০০টির বেশি অত্যাধুনিক স্টিলথ মিসাইল এরই মধ্যে এই যুদ্ধে খরচ হয়ে গেছে, যা মার্কিন বাহিনীর বর্তমান মজুতের প্রায় অর্ধেক।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ৫৬০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র। বর্তমানে যুদ্ধের গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে দিনে প্রায় ১০০ কোটি ডলার।
অস্ত্রের এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান উৎপাদন হার অনুযায়ী, ফুরিয়ে যাওয়া এই অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পেন্টাগন বাধ্য হয়ে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন সামরিক কমান্ড থেকে বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিচ্ছে।
এমনকি উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা উন্নত থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জামও সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র তাদের হাতে থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মার্কিন সামরিক মহলে।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধ মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অতিরিক্ত ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা এবং সস্তা ড্রোন প্রযুক্তির অভাবকেও সামনে নিয়ে এসেছে। ৪০ লাখ ডলার মূল্যের একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল দিয়ে সাধারণ কোনো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করাকে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন অপচয় হিসেবে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন সমরাস্ত্র উৎপাদন চারগুণ বাড়ানোর জন্য বড় বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে, তবে কংগ্রেস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় না হওয়ায় সেই কাজ এখনো গতি পায়নি। ফলে একদিকে যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহারের ফলে মজুত কমে যাওয়া এবং অন্যদিকে নতুন মজুতের ধীরগতি; সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কঠিন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
.png)





