logo

শতবর্ষে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ইসরায়েল

শতবর্ষে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ইসরায়েল

প্রতিষ্ঠার শতবর্ষে পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইৎজাক ব্রিক। তিনি বলেছেন, ‘২০৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার শতবর্ষে পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’

অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতাকে সম্ভাব্য এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা। মা’রিভ নামে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে ব্রিক এমন মন্তব্য করেন।

ব্রিক লেখেন, ‘আমি যখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাই, নিজেকে প্রশ্ন করি, ইসরায়েল কি আদৌ ১০০ বছরে পৌঁছাতে পারবে? গত কয়েক দশকে ইসরায়েল এমন এক সমাজে পরিণত হয়েছে, যা ভেতর থেকে ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে, ডান ও বামপন্থিদের মধ্যে এবং ইহুদি ও আরবদের মধ্যে গভীর বিভাজন ও ঘৃণা তৈরি হয়েছে, যা রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে। ইসরায়েল এখন এমন এক শাসনের অধীনে রয়েছে, যারা জনস্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’

ওই নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন ও দিকনির্দেশনাহীন বলে উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সাবেক জেনারেল।

তার মতে, ‘বিশ্বে ইসরায়েলকে ক্রমেই এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাখ্যানের জন্ম দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইসরায়েলি নাগরিক দেশ ছাড়ারও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটি থেকে বিদেশে পাড়ি জমানোর হার আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।

ব্রিক বলেন, ‘নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও বিজ্ঞান—সব খাতেই ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বে আনতে হবে। উত্তর সীমান্তে লেবানন ও সিরিয়া এবং দক্ষিণে গাজার সঙ্গে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এমন শক্তির প্রয়োজন, যা মূলত তরুণদের মধ্যেই রয়েছে। তরুণ প্রজন্ম যদি হতাশাকে দায়িত্ববোধে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণকে বুদ্ধিবৃত্তিক অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে পারে, তবেই ইসরায়েল শতবর্ষ অতিক্রম করার সম্ভাবনা ধরে রাখতে পারে।’

উল্লেখ্য, গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও। একই সঙ্গে, অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা ও ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়, যা প্রায় দুই বছর ধরে চলে। এই সময়ে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। একই সময়ে লেবানন ও ইরানের সঙ্গেও বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘাতে জড়ায় ইসরায়েল।