logo

ইরানে কুর্দিদের স্থল অভিযান শুরু, দাবি পশ্চিমা গণমাধ্যমের 

ইরানে কুর্দিদের স্থল অভিযান শুরু, দাবি পশ্চিমা গণমাধ্যমের 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ উচ্চতায় পৌঁছেছে। এরইমধ্যে ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত হাজার হাজার কুর্দি যোদ্ধা সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানের অভ্যন্তরে ঢুকেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, ইতোমধ্যে কুর্দি যোদ্ধারা ইরানে স্থল অভিযান শুরু করেছে। 

বুধবার (৪ মার্চ) সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল ফক্স নিউজ, এপি ও সিএনএন-এর বরাতে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

মর্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, গত ২ মার্চ মধ্যরাত থেকে হাজার হাজার ইরাকি কুর্দি যোদ্ধা সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক স্থল অভিযান শুরু করেছে। 

সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিআইএ ইরানে একটি গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্যে কুর্দি বাহিনীকে সশস্ত্র করার কাজ করছিল। এছাড়া কুর্দি কর্মকর্তারা আই২৪ নিউজকে জানিয়েছেন যে, কুর্দি বাহিনী ইরাক সীমান্ত থেকে অগ্রসর হচ্ছে। কোয়ালিশন অফ পলিটিক্যাল ফোর্সেস অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (সিপিএফআইকে)-এর এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দি বাহিনীর স্থল সামরিক তৎপরতা গত ২ মার্চ মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানি বাহিনী ৩ মার্চ সীমান্ত শহর মারিওয়ান খালি করে দিয়েছে এবং সেখানে রক্ষণাত্মক অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছে। ইসরায়েল থেকেও খবর আসছে যে, কুর্দি বাহিনী ইরানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিত সেগাল বলেছেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, কুর্দি বাহিনী ইরানি বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

কুর্দি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি কুর্দিদের এই অভিযানে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে।

ইরানের বিভক্ত বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সবচেয়ে সুসংগঠিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ধারণা করা হয় যে, তাদের হাজার হাজার প্রশিক্ষিত যোদ্ধা রয়েছে। যুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ তেহরানের বিপর্যস্ত সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং এতে ইরাকও এই সংঘাতের গভীরে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে অবস্থিত কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পিএকে)-এর কর্মকর্তা খলিল নাদিরি বলেন, তাদের কিছু বাহিনী সুলায়মানিয়াহ প্রদেশের ইরানি সীমান্তের কাছের এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে এবং যেকোনো নির্দেশের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা কুর্দি বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

তবে হোয়াইট হাউস ইরাকে কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও তাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।