স্কুলে সশরীরে ক্লাস এখনই শুরু করছে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনও দুপক্ষের প্রস্তাব পাল্টা-প্রস্তাবের মধ্যে থমকে আছে। ঠিক কখন এই যুদ্ধের সমাপ্তি আসবে, আবারও ইরানের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের পাঠদান নেবে এই আশায় দিন কাটছে তেহরানের জনগণের।
এর মধ্যে ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরাসরি উপস্থিত হয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
সম্প্রতি ইরানের কিছু স্কুল তাদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলো সরাসরি স্কুলে এসে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছিল। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু স্কুল পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরাসরি ক্লাস বা পরীক্ষা শুরু করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতির ওপর এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের অনুমতির ওপর নির্ভর করছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো স্কুলই নিজ সিদ্ধান্তে সশরীরে পাঠদান বা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না।
আপাতত শিক্ষার্থীদের আগের মতোই দূরশিক্ষণ বা অনলাইন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের ৭৭৫টি মেরামত করে পুনরায় পাঠদানের উপযোগী করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় প্রায় ২০টি স্কুল পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তেহরান, কেরমানশাহ, ইসফাহান এবং হরমুজগান প্রদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।
কাজেমি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যে স্কুলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর সংস্কারকাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ করা হবে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, মিনাব স্কুলে হামলার ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ১৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় নিহতের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ওই হামলা চালায়। এতে ৭৩ ছেলে শিশু ও ৪৭ মেয়ে শিশু প্রাণ হারায়।
আইআরআইবি টেলিগ্রাম পোস্টে জানায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ জন শিক্ষক, ৭ জন অভিভাবক, একজন স্কুলবাস চালক ও স্কুলের পাশের ক্লিনিকের একজন ফার্মাসি টেকনিশিয়ান রয়েছেন।
নতুন এ তথ্যের ফলে নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৫–এ। এটি আগে ১৭৫ এর বেশি বলে ধারণা করা হয়েছিল। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তের তথ্যমতে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’ স্কুলটিতে আঘাত হানে। এ ঘটনার জন্য ইরান নিজেই দায়ী হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইরান তাদের কাছে কোনো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নেই বলে জানিয়েছে।