logo
রয়টার্সের প্রতিবেদন

রোববার জেনেভায় সই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি

রোববার জেনেভায় সই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী রোববার (১৪ জুন) একটি ঐতিহাসিক শান্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

শুক্রবার (১২ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সম্ভাব্য ভেন্যু বা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা। তবে চুক্তির খসড়া লেখার কাজ এখনও চলমান বলে জানিয়েছে সূত্র।

সূত্রটি জানায়, এই চুক্তির শর্ত হিসেবে লেবাননে চলমান যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবিতে অনড় রয়েছে তেহরান, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর লড়াই চলমান রয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেছি।’ এই চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি ইরানের ওপর নতুন করে নির্ধারিত বিমান হামলা বাতিলেরও নির্দেশ দেন।

তবে চুক্তির যে সব শর্তাবলি সামনে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের চেয়ে ইরান বেশি লাভবান হচ্ছে। ট্রাম্পের নির্দেশে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান রণকৌশল হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই চুক্তি হলে ট্রাম্পের একমাত্র বড় অর্জন হবে প্রণালিটি পুনরায় চালু করা। বিপরীতে ইরান তাদের প্রায় সব দাবি আদায় করে নিচ্ছে।

রয়টার্সকে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির খসড়া অনুযায়ী ইরানের তেলের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল অবমুক্ত করা হবে এবং লেবাননসহ সব সীমান্তে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের দাবি বা পারমাণবিক ইস্যুটিকে এখন চুক্তিতে রাখা হচ্ছে না, বরং এটি পরবর্তী আলোচনার জন্য সরিয়ে রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, যদিও ইরান বলে আসছে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র চাইছে না। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইরান আসলে যুক্তরাষ্ট্রকে কী সুবিধা দিচ্ছে, তা স্পষ্ট করেনি ওই সূত্র। ওয়াশিংটনও এই নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ দাবি করেছে, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে। ওয়াশিংটনকে ইরানের চারপাশ থেকে তাদের সব সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানকে অবশ্যই কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হেয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প যেখানে ইরানকে ‘খুব শক্তভাবে’ আঘাত করার হুমকি দিয়েছিলেন, তার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই চুক্তির ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। শুক্রবার বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে বড় চাঙ্গাভাব দেখা গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ইউরোপীয় সকালের বাণিজ্যে এক ধাক্কায় ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালীন ট্রাম্প এর আগেও বহুবার ‘চুক্তি শিগগিরেই হতে যাচ্ছে’ বলে এমন ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ফল আসেনি। রোববারের চুক্তি সইয়ের দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।